আ.লীগের ‘নাশকতা ঠেকাতে’ ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
আ.লীগের ‘নাশকতা ঠেকাতে’ ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকাসহ ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

আগামীকাল ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে নাশকতা রোধে সেনা মোতায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সোমবার (২২ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ঢাকা, গাজীপুর , নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও চট্টগ্রাম জেলায় সেনা মোতায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজকের মধ্যেই এ সংক্রান্ত আদেশ জারি হবে।

তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অন্যান্য সংস্থাকে সহযোগিতা করতে এক সপ্তাহের জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ মোতাবেক সেনা মোতায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কে এম ইয়াসির আরাফাত সোমবার সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার বরাবর লেখা এক চিঠিতে ছয় জেলায় সেনা মোতায়নের অনুরোধ জানান।

সেখানে বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

এমতাবস্থায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষার লক্ষ্যে ২২ জুন হতে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এর আগে, রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে ১৮ হাজার পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ২৩ জুন সম্ভাব্য যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুরো ঢাকাজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। শুধু মাঠপর্যায়ের ফোর্স নয়, ডিএমপি কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরেজমিনে নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকি করবেন।

রোববার (২১ জুন) ডিএমপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীর ২০০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট ডিউটি থাকবে। একই সঙ্গে মহানগরের প্রবেশমুখগুলোতে কড়া নজরদারি ও তল্লাশি জোরদার করা হবে, যাতে কোনো বহিরাগত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।

যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহানগরের বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত রাখা হবে। এ ছাড়া ঢাকার চারটি প্রধান কন্ট্রোল রুমে পর্যাপ্ত রিজার্ভ ফোর্স স্ট্যান্ডবাই থাকবে, যাতে প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে মোতায়েন করা যায়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি মাঠে থাকবে ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিটগুলোও। গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য নাশকতা বা ষড়যন্ত্র ঠেকাতে সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন (আইএডি) গোয়েন্দা নজরদারি চালাবে।