Advertisement

অজিত দোভালের সঙ্গে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার বৈঠক নিয়ে মুখ খুলছে না কোনো পক্ষ

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
অজিত দোভালের সঙ্গে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার বৈঠক নিয়ে মুখ খুলছে না কোনো পক্ষ
অজিত দোভাল ও এ কে এম শামসুল ইসলাম (বাঁ থেকে)। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম। বৈঠকের ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে মুখ খোলেনি কোনো পক্ষই।

তবে সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কথা হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত ১৬ জুলাই ভারতে বিমসটেকভুক্ত (বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী দেশগুলোর একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা জোট) দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানদের পঞ্চম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ কে এম শামছুল ইসলাম।

এবারের বিমসটেক সম্মেলনে সমুদ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর পেশাগত আচরণের বিষয়ে একগুচ্ছ নীতিমালা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বা প্রতিনিধিদলের প্রধানরা সন্ত্রাসবাদ এবং সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলা; সাইবার, সামুদ্রিক এবং জ্বালানি খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; যোগাযোগ বৃদ্ধি; কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহজতর করা এবং নিরাপত্তার জন্য নতুন ও উদীয়মান হুমকি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এদিকে বিমসটেক সম্মেলনের সাইডলাইনে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার কার্যালয়ে অজিত দোভালের সঙ্গে শামসুল ইসলামের একান্ত বৈঠক হয়।

২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। এজন্য এবারের বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব রাখে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও দূরত্ব বজায় ছিল দুই দেশের। তবে বিএনপি সরকার গঠনের পর দুই দেশের সম্পর্কে উন্নতির কিছু লক্ষণ দেখা গেছে। যদিও সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইনসহ বেশ কিছু বিষয়ে এখনও টানাপোড়েন রয়েছে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের কোনো উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করলেন। এর আগে গত এপ্রিলে দিল্লি সফরের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন।

তারও আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সম্মেলনের আগে অজিত দোভাল বাংলাদেশের তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।