‘সিজিপিতেই আটকে থাকলে তরুণ গবেষকদের দেশে রাখা সম্ভব নয়’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও টানা ৫ বছর স্ট্যানফোর্ডের শীর্ষ ২ শতাংশের তালিকায় থাকা গবেষক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুনকে নিজ বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের ভাইভায় বসতেই দেওয়া হয়নি। স্নাতকোত্তরে ৩.৭৬ সিজিপিএ এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকলেও স্নাতকে সিজিপিএ নির্ধারিত ৩.৬০ -এর চেয়ে মাত্র ০.০৬ পয়েন্ট কম থাকায় প্রাথমিক বাছাই পর্বে বাদ পড়েন তিনি।
এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল মামুন এশিয়া পোস্টকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বিষয়ে আমরা যদি কেবল সিজিপিএর নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে থাকি, তবে আন্তর্জাতিক মানের তরুণ গবেষকদের দেশে ধরে রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।
মামুন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী, আবেদনের জন্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—উভয় পর্যায়েই ৪.০০ স্কেলে ন্যূনতম ৩.৬০ সিজিপিএ থাকা বাধ্যতামূলক। মামুন স্নাতকোত্তরে ভালো ফল করলেও স্নাতকে ৩.৫৪ পাওয়ায় আবেদনটি বাতিল বলে গণ্য করা হয়। এই শর্তের কারণেই গত ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত বিভাগটির শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে ভাইভা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই তরুণ গবেষক।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাফিলিয়েশনে মামুনের ১৯৪টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে, যা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম শীর্ষ গবেষকের স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব নটিংহামে উচ্চতর গবেষণায় নিয়োজিত। সেখানে সব কোর্সওয়ার্কে সর্বোচ্চ ‘ডিস্টিংশন’ অর্জনের পাশাপাশি ‘স্টাফ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এ ৪ শতাধিক প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে আউটস্ট্যান্ডিং পোস্টগ্র্যাজুয়েট রিসার্চার বিভাগে রানার্স-আপ হয়েছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মামুন এশিয়া পোস্টকে বলেন, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, সাইটেশন ও বৈশ্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু সিজিপিএ মাত্র ০.০৬ পয়েন্ট কম থাকায় ইন্টারভিউ বোর্ডেই বসার সুযোগ পেলাম না। হয়তো গবেষণায় মনোযোগ না দিয়ে পরীক্ষার পড়া বেশি পড়লে এই শর্তটুকু পূরণ করা যেত।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, টানা বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় স্থান পাওয়ার পর তৎকালীন প্রশাসন তাকে ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে গবেষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল, যা পরবর্তীতে আর বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি তার এই গবেষণা-অর্জনের ওপর ভিত্তি করে মালয়েশিয়ার একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষক হিসেবে যোগদানের প্রস্তাব এসেছে, যা নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে মামুন বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে আমি হৃদয়ে ধারণ করি, তাই এটাই ছিল আমার প্রথম পছন্দ। আমি নিয়ম ভেঙে চাকরি চাই না। তবে আমার প্রশ্ন—বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ট সিজিপিএ-কেই কি একমাত্র যোগ্যতা বা নির্ধারক হিসেবে বিবেচনা করা যৌক্তিক?
ড. মামুন তার শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আমার শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তরুণ গবেষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছি। বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন গবেষণার সক্ষমতা, সাইটেশন, শিক্ষণ দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অবদানকে প্রাধান্য দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসানের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তা রিসিভ হয়নি।
জানা যায়, স্কোপাস (এলসেভিয়ার) ডেটাবেসের তথ্যের ভিত্তিতে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা প্রতিবছর বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকা প্রকাশ করেন। ২০২১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ওই তালিকায় রয়েছেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন।
.png)






