কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যা মামলার বিচার শুরু ১৬ আগস্ট

প্রায় ১০ মাস পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার রিনথী হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছেন আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)-এর ৯(২) ধারার পাশাপাশি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০২ (হত্যা) ও ৩৮০ (চুরি) ধারায় অভিযোগ এনে দাখিল করা এই চার্জশিট গ্রহণের পর আগামী ১৬ আগস্ট মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে বলে জানা গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরীফ ইবনে আলম তদন্ত শেষে গত ১৪ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে এটি গ্রহণ করেন।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, সুমাইয়ার মৃত্যু শ্বাসরোধে (ম্যানুয়াল স্ট্র্যাঙ্গুলেশন) ফলে হয়েছে। এ ছাড়া জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনের আলামত পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত, রাসায়নিক ও অণুজীব পরীক্ষাসহ সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সুমাইয়া আক্তার রিনথী (২৩) ও তার মা তাহমিনা বেগম ফাতেমার (৫২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
ঘটনার দিনই অভিযান চালিয়ে পুলিশ আসামি মো. মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশের তদন্ত ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ঝাড়ফুঁকের সূত্রে সুমাইয়ার পরিবারের সঙ্গে মোবারক হোসেনের পরিচয় হয়। ঘটনার আগে প্রায় এক মাস ধরে তিনি নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। স্বীকারোক্তিতে তিনি জানান, ঝাড়ফুঁকের সময় সুমাইয়াকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি দেখে ফেলায় প্রথমে সুমাইয়ার মা তাহমিনা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে সুমাইয়াকে পুনরায় ধর্ষণের পর হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর বাসা থেকে চারটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ নিয়ে পালিয়ে যান।
অভিযুক্ত মো. মোবারক হোসেন কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার কাবিলপুর গ্রামের মৃত আবদুল জলিলের ছেলে। তিনি কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন। পেশায় ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজির কাজ করার পাশাপাশি বাবুস সালাম জামে মসজিদের খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
চার্জশিট দাখিলে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শরীফ ইবনে আলম বলেন, এটি একটি হত্যা মামলা এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এ ধরনের মামলায় নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে চার্জশিট দাখিল করার কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। তদন্তের সব ধাপ, প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
নিহত পরিবারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল হোসাইন বলেন, আদালত অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তের ধাপ পেরিয়ে বিচারপর্বে প্রবেশ করেছে। আগামী ১৬ আগস্ট মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ উপস্থাপনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে আগামী চার মাসের মধ্যে, অর্থাৎ চলতি বছরের শেষ নাগাদ মামলাটির চূড়ান্ত রায় বা নিষ্পত্তি সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।
.png)






