Advertisement

‘ভাংতি নেই’ অজুহাতে রিকশাচালককে কাঁদিয়ে উধাও যুবক

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
‘ভাংতি নেই’ অজুহাতে রিকশাচালককে কাঁদিয়ে উধাও যুবক
প্রতারণার শিকার হওয়া রিকশাচালক রামচন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

মানুষের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সটকে পড়া নতুন কিছু নয়। তবে সেই প্রতারণার শিকার যখন একজন নিঃস্ব খেটে খাওয়া মানুষ হন, তখন তা মানবিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে তেমনই এক নির্মম প্রতারণার শিকার হয়েছেন রামচন্দ্র নামের এক রিকশাচালক।

ঘটনার সূত্রপাত পুরান ঢাকা থেকে। ৭০ টাকা ভাড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার জন্য রামচন্দ্রের রিকশায় ওঠেন এক যুবক। পথিমধ্যে টুকটাক গল্প আর ভালো ব্যবহারের কারণে যুবকের প্রতি এক ধরনের আস্থা তৈরি হয় চালক রামচন্দ্রের। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছাতেই বদলে যায় দৃশ্যপট।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে রিকশা থেকে নেমে যুবকটি জানান, তার কাছে ভাঙতি টাকা নেই। রামচন্দ্রকে কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়াতে বলে ‘ভাঙতি নিয়ে আসছি’ জানিয়ে ভবনের ভেতরে ঢুকে যান তিনি।

ভারাক্রান্ত কণ্ঠে রামচন্দ্র বলেন, বলেছিল ভাঙতি নিয়ে এখনই ফিরবে। আমি সরল বিশ্বাসে বসে রইলাম। কিন্তু এক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও সে আর এলো না।

তিনি আরও বলেন, আমি উনার কথা শুনে মনে করেছিলাম খুব ভদ্র মানুষ। এক ঘণ্টা ধরে অনুষদের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর যখন বুঝতে পারলাম আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। ভাড়া যদি না থাকে আমাকে বললেই তো হতো। বলে গেলে তো আমি আর জোর করতাম না, অপেক্ষাও করা লাগতো না।

কারও কারও কাছে ৭০ টাকা হয়তো খুবই সামান্য। কিন্তু সেই টাকাটাই একজন রিকশাচালকের পরিবারের এক বেলার আহারের বন্দোবস্ত।

দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর এক পয়সা ভাড়া না পেয়ে, চরম ক্ষোভ আর মন খারাপ নিয়ে খালি হাতেই গন্তব্যে ফিরে যেতে বাধ্য হন রামচন্দ্র। সামান্য কিছু টাকার জন্য একজন শ্রমজীবী মানুষের সরলতার সঙ্গে এমন প্রতারণা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আশপাশের পথচারীরাও।