চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির জন্য সরকারই দায়ী: চরমোনাই পীর

চট্টগ্রামের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির জন্য সরকারের চরম উদাসীনতা, অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিনের ব্যর্থতাই দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৩টায় বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বগুড়া জেলা শাখা আয়োজিত তৃণমূল দায়িত্বশীল সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চরমোনাই পীর বলেন, বছরের পর বছর ধরে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিরসনের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও, দৃশ্যত কোনো সুফল পায়নি সাধারণ মানুষ। দুর্নীতির কারণে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বাঁধ নির্মাণ কাজ থমকে আছে, যার খেসারত আজ দিতে হচ্ছে চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণকে।
তিনি বলেন, প্রায় চার বছর ধরে দেশে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে, যা প্রকৃতপক্ষে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন করে তুলেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সাধারণ তো বটেই, মধ্যবিত্ত পরিবারেরও ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এই সংকট শুধু কোনো বৈশ্বিক পরিস্থিতির ফল নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে চলা আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনা, লাগামহীন খেলাপি ঋণ, অর্থ পাচার এবং নীতি দুর্বলতারই অনিবার্য পরিণতি।
বাজার সিন্ডিকেট ও অবৈধ অর্থনৈতিক তৎপরতা দমনে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো সদিচ্ছা পরিলক্ষিত হচ্ছে না মন্তব্য করে সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, একদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা দেউলিয়া হওয়ার পথে, অন্যদিকে মুষ্টিমেয় কিছু অসাধু চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে দেশের গোটা অর্থনীতি।
ইসলামী আন্দোলনের দাবি, দেশের এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণের জন্য শুধু কথার ফুল না ঝড়িয়ে অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তার মতে, সম্প্রতি বিভিন্ন মহল থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার যে একপাক্ষিক ও বিভ্রান্তিকর প্রয়াস চালানো হচ্ছে, তা বাস্তব ঐতিহাসিক সত্য এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও আত্মমর্যাদাকে ক্ষুন্ন করে কোনো পরাশক্তিকে ঢালাওভাবে ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবে আখ্যায়িত করার সুযোগ নেই।
জেলা সভাপতি আ.ন.ম মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম শফিকের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন আল্লামা আব্দুল হক আজাদ, দলের সিনিয়র সহসভাপতি ও জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ বগুড়া জেলার সভাপতি মাওলানা আব্দুল মতিন, সহসভাপতি অধ্যাপক মীর মাহমুদুর রহমান চুন্নু, জয়েন্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক মুফতি এমদাদুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ সোহরাব হোসেন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি ফরহাদ হোসেন মন্টু প্রমুখ।




