দেশে চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবাজের হাতবদল হয়েছে, পরিবর্তন আসেনি: হাসনাত আবদুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আমরা একটি চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ মুক্ত সমাজ চেয়েছিলাম। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পর দেশে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের হাত বদল হয়েছে মাত্র, কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। সর্বস্তরে মামলা বাণিজ্য, বালু বাণিজ্য এবং প্রশাসনের স্তরে স্তরে দুর্নীতি স্থান গড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে ফেনীর সোনাগাজীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির আয়োজনে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে পদযাত্রা কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
হাসনাত বলেন, আমরা চাঁদাবাজ ও চাঁদাবাজির পরিবর্তন চেয়েছিলাম, দুর্নীতিমুক্ত একটি সমাজ চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই পরিবর্তন আসে নাই। যারা দাবি করত, আগে ধান ক্ষেতে ঘুমাতো, রিকশা চালাতো- তারা এখন প্রাডো গাড়ি চালায়। মামলা বাণিজ্য, বালু বাণিজ্য করে তারা এখন কোটি কোটি টাকার পাহাড় গড়েছে। আগে একপক্ষ মামলা বাণিজ্য করেছিল, এখন আরেক পক্ষ করছে। দেশে এসবের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, যে চাকরির জন্য কোটা আন্দোলন হলো, দেশের ছাত্র সমাজ রাস্তায় নেমেছিল, কিন্তু দেশে এখন কোনো কর্মসংস্থান হচ্ছে না। সরকারের গত ছয় মাসে একটিও কর্মসংস্থান হয়নি। চাকরির পরিবর্তে দেশ মাদক ও জুয়ায় ভরে গেছে। মাদক কোনো সুস্থ প্রজন্ম তৈরি করে না। সরকারের মন্ত্রীরা ঈদের পরে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হবে বললেও এখনো দেশে কোনো বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়নি। এভাবে আগে ঈদের পর আন্দোলন হবে, আন্দোলন হবে বললেও কোনো আন্দোলন হয়নি, যার ফলে দেশের ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে, ঈদের পরের জন্য আর বসে থাকেনি।
তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতায় এসে বিদ্যুতের পরিবর্তে জনগণের হাতে হারিকেন আর মোমবাতি তুলে দিয়েছে। আগে বিদ্যুৎ যেত, এখন বিদ্যুৎ আসে। সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, দেশে কোনো লোডশেডিং নাই। আমি মন্ত্রীদের বিনীত অনুরোধ করব, ঢাকা শহরের এসি রুম ছেড়ে জনগণের কাতারে নেমে এসে দেখেন বিদ্যুৎ আছে কি না। মুছাপুর ক্লোজার ভাঙার কারণে এই অঞ্চল বন্যা ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ জানাবো- মুছাপুর ক্লোজার নতুন করে নির্মাণ করতে হবে, না হলে জনগণের দুর্ভোগ শেষ হবে না।
হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, আমাদের দুর্নীতিবাজ সাজানোর জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের সোবহান মিডিয়া উঠে-পড়ে লেগেছে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, আমাদের বিরুদ্ধে এক টাকার দুর্নীতিও প্রমাণ করতে পারবেন না। বিগত বন্যার জন্য সংগৃহীত টাকার পুঙ্খানু-পুঙ্খানু হিসাব দেওয়া হয়েছে। এসব না বুঝে, না শুনে কিছু মানুষ আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডায় নেমেছে। এসব দুর্বিতায়নের বিরুদ্ধে ঘরে ঘরে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ে যেতে চাই।
এনসিপির এই নেতা বলেন, আগামী নির্বাচনসমূহে আমরা অংশ নেবো, আমরা এক ভোট পেলেও নির্বাচনে থেকে মানুষের কাছে যাব। পরে তিনি সোনাগাজী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এনসিপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সুজা উদ্দিন সজীবকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির সোনাগাজী উপজেলা আহ্বায়ক আবদুল্লা আল মামুনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মোশাররফ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান জুনায়েদ, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব আবু বাকের মজুমদার, ফেনী জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত, সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিকসহ এনসিপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা।




