দুই বছরেও উদ্ধার হয়নি মাধবদী পৌরসভার ৩ গাড়ি

কাউছার মাহমুদ, নরসিংদী
দুই বছরেও উদ্ধার হয়নি মাধবদী পৌরসভার ৩ গাড়ি
মাধবদী পৌরসভা ও ডাম্প ট্রাক। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভা থেকে ২০২৪ সালের আগস্টে উধাও হয় দুই কোটি টাকার পাঁচটি সরকারি যানবাহন। এর মধ্যে ছিল চারটি ডাম্পট্রাক ও পৌরসভার একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স। গত ১০ জুলাই জেলা প্রশাসনের বিশেষ অভিযানে দুটি ডাম্পট্রাক উদ্ধার হলেও এখনও হদিস নেই বাকি তিন গাড়ির।

সরেজমিনে পৌরসভার গ্যারেজ পরিদর্শনে দেখা যায়, ২০২১ সালে কেনা সাতটি ডাম্পট্রাকের মধ্যে সেখানে আছে মাত্র তিনটি। সেগুলোও দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। বাকি চারটির কোনো হদিস মেলেনি। জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত পৌরসভার একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটিও গ্যারেজে পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার একাধিক সূত্রের দাবি, শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা এলাকায় মাটি বহনের কাজে ব্যবহারের জন্য চারটি ডাম্পট্রাক বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে পৌরসভার গাড়িচালক কামাল হোসেন ও মোস্তফাসহ আরও কয়েকজন জড়িত। আর অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন কামাল হোসেন।

গত ১০ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা মোড়ে অবস্থিত ‘চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং মটর ওয়ার্কস’ গ্যারেজে অভিযান চালায় নরসিংদী জেলা প্রশাসন। এতে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. খালিদ হোসেন শিমুল।

অভিযানে দুটি ডাম্পট্রাক উদ্ধার করা হয়। তবে বাকি দুই ডাম্পট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ মেলেনি।

পৌরসভা সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অ্যাম্বুলেন্সটি নেওয়া হয় ভগিরথপুর এলাকার একটি গ্যারেজে। পরে সেখান থেকে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করে দেন গাড়িচালক কামাল হোসেন।

ভগিরথপুর এলাকার গ্যারেজ মালিক মনু বলেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর অ্যাম্বুলেন্সটি আমার গ্যারেজে আনা হয়েছিল। পরে পৌরসভার গাড়িচালক কামাল এসে সাহেপ্রতাপ এলাকার নুরুল ইসলামের গ্যারেজে নেওয়ার কথা বলে অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ে যায়।’ তবে নুরুল ইসলামের দাবি, তার গ্যারেজে পৌরসভার কোনো অ্যাম্বুলেন্স মেরামতের জন্য নেওয়া হয়নি।

নিজের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ অস্বীকার করে গাড়িচালক কামাল হোসেন বলেন, ‘৫ আগস্টের পর গাড়িগুলো মনুর গ্যারেজে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেগুলো কোথায় গেছে, তা আমি জানি না।’

মাধবদী পৌরসভার প্রশাসক ও নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। কারও কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা আমাদের কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানাই।’

বিষয় :নরসিংদী