শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদাবাজি, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

নীলফামারীতে শ্রমিকদল নেতার নেতৃত্বে বিভিন্ন রুটে জবরদখল, সড়কে চাঁদাবাজি ও সাধারণ শ্রমিক নির্যাতনের প্রতিবাদে সৈয়দপুরে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে নীলফামারী জেলা বাস-ট্রাক-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসংলগ্ন মহাসড়কে এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
এ সময় জেলার বিভিন্ন উপজেলার দুই শতাধিক পরিবহন শ্রমিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। মহাসড়ক অবরোধের কারণে সড়কের দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে দাঁড়ালে এক ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নীলফামারী জেলা বাস-ট্রাক-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, কার্যকরী সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল গণি ইসরাইল প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, নীলফামারী জেলার জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল নেতা নুর আলমের নেতৃত্বে অশ্রমিকদের নিয়ে ‘নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন’ (রেজি নং-৩৪৪৬) নামে একটি ভুঁইফোড় সংগঠন দাঁড় করানো হয়েছে। এই পকেট সংগঠনের নামে বিভিন্ন বাস কাউন্টার, স্ট্যান্ড ও চলন্ত গাড়ি থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন উপজেলায় উপকমিটি গঠন করে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসব অন্যায় কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় সাধারণ শ্রমিকদের মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কর্মস্থল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।
শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, এই অবৈধ চাঁদাবাজি ও শ্রমিক হয়রানির বিষয়টি নিয়ে তারা এর আগে একাধিকবার শ্রম পরিচালক, রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সর্বশেষ গত ৩০ মার্চ, ১৭ মে ও ৭ জুলাই পৃথক অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও প্রশাসন কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি। অনতিবিলম্বে এই চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ভুঁইফোড় সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া না হলে, আগামীতে উত্তরবঙ্গে সড়ক অবরোধ করে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করাসহ আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।





