ভয়ে ৪ দিন চুপ ছিল শিশুটি, সহপাঠীর কাছে ধর্ষণের ঘটনা ফাঁস

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ময়মনসিংহ
ভয়ে ৪ দিন চুপ ছিল শিশুটি, সহপাঠীর কাছে ধর্ষণের ঘটনা ফাঁস
গ্রেপ্তার সুমন আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে আট বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার সুমন আহমেদ (২৫) মুক্তাগাছা উপজেলার বাসিন্দা। সে পেশায় একজন দিনমজুর।

শিশুটির পরিবার, পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে শিশুটি বাড়ির পাশে খেলছিল। এ সময় সুমন তাকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনা কাউকে জানালে শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় সে। ঘটনার পর থেকেই শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার মা অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করে বারবার জিজ্ঞাসা করলেও ভয়ে শিশুটি চুপ থাকে। ওই রাতেই শিশুটির তীব্র জ্বর আসে।

গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে প্রতিবেশী শিশুরা তাকে খেলার জন্য ডাকতে এলে সে নিজের অসুস্থতার কথা জানায়। একপর্যায়ে খেলার এক সহপাঠীকে সে ধর্ষণের বিষয়টি খুলে বলে। ওই শিশু বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে পুরো ঘটনা জানাজানি হয় এবং একপর্যায়ে ভুক্তভোগী শিশুর মা সব জানতে পারেন। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সুমনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুমনকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়। বৃহস্পতিবার রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে সুমনকে একমাত্র আসামি করে মুক্তাগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে আমার মেয়ের পেটে প্রচণ্ড ব্যথা। সে ভয়ে আমাদের কিছু জানায়নি, ৪ দিন ধরে কিছু খেতেও পারছে না। আমি সুমনের বিচার দাবি করছি।’

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে জবানবন্দির জন্য শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়েছিল। শনিবার ডাক্তারি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হবে। গ্রেপ্তার আসামি সুমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

বিষয় :ময়মনসিংহ