থানায় ঢুকে কেরোসিন ঢেলে ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’ ২১ মামলার আসামির

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ভেতরে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন মো. রমজান (৪০) নামের স্থানীয় এক শীর্ষ মাদক কারবারি। তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে নিবৃত্ত করে থানা হেফাজতে নেন। পরে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে থানা চত্বরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত রমজান বন্দর থানার একরামপুর এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে বন্দর থানায় অন্তত ২১টি মাদক মামলা রয়েছে এবং বর্তমানে তিনি সবকটি মামলায় জামিনে আছেন। অতীতেও তিনি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে একটি প্লাস্টিকের বোতলে কেরোসিন নিয়ে বন্দর থানায় প্রবেশ করেন রমজান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি থানার ভেতরে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে দেন এবং হাতে থাকা দেশলাই (ম্যাচ) দিয়ে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ডিউটি অফিসার ও উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তার কাছ থেকে দেশলাই কেড়ে নেন এবং তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনাকে রমজানের ‘নতুন নাটক’ বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, বন্দরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইস্পাহানি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রমজান মাদকের একটি বড় সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন। সম্প্রতি এলাকাবাসীর মাদকবিরোধী অভিযানে তার মাদকের আস্তানা ও গ্যারেজ বন্ধ করে তাকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে এলাকায় ঢুকলে তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনার পর থেকেই নিজেকে ‘ভালো মানুষ’ ও ‘সংশোধিত’ প্রমাণ করতে রমজান নানা চেষ্টা শুরু করেন। কখনও প্রকাশ্যে রাস্তায় সিজদা দিয়ে অনুতপ্ত হওয়ার ভান করেন, আবার কখনও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত আবেদন জানান। কিন্তু আড়ালে মাদক কারবারিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ঠিকই ছিল। মূলত সাম্প্রতিক জনরোষ, প্রতিপক্ষের চাপ ও গ্রেপ্তার এড়াতে পুলিশের সহানুভূতি পেতেই তিনি থানার ভেতরে আত্মহত্যার চেষ্টার এই নাটকীয় ঘটনা ঘটিয়েছেন।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, ঘটনার সময় পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনে এবং থানায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হেফাজতে রাখে। রমজানের বিরুদ্ধে থানায় ২১টি মাদক মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সহযোগীদের সঙ্গে মাদক ব্যবসার টাকার ভাগাভাগি ও বিরোধের জেরে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।





