সোনামসজিদ স্থলবন্দর/জায়গা সংকটে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন আমদানিকারকরা

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থলবন্দরে তীব্র জায়গা সংকটের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিধি। আড়াই যুগ আগে মাত্র ১৯ দশমিক ১৩ একর জায়গা নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বাড়লেও বাড়েনি ইয়ার্ড ও অবকাঠামোর পরিধি। বর্তমানে এই সীমিত জায়গার ভেতরেই প্রতিদিন ভারত থেকে ৩০০-৩৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করায় বন্দরে তীব্র স্থান সংকুলানহীনতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে কার্যত থমকে গেছে এই স্থলবন্দরের বাণিজ্যের পরিধি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করে ইয়ার্ড সম্প্রসারণ করা না হলে এই বন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও সংকুচিত হবে, যার ফলে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাবে।
ব্যবসায়ী ও বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে চালুর পর থেকে এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রটির পরিধি আর বাড়েনি। ইয়ার্ডে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ভারত থেকে আসা পণ্যবোঝাই ট্রাকগুলো বন্দরে প্রবেশের পর অবস্থান করার মতো ন্যূনতম খালি জায়গা পায় না। ফলে মালামাল খালাসের জন্য ট্রাকগুলোকে দিনের পর দিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জায়গার অভাবে ট্রাক লোড-আনলোডে দীর্ঘ সিরিয়াল ধরতে হয়। বন্দরে অতিরিক্ত বিলম্বের কারণে আমদানিকৃত পণ্য রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাজারে সঠিক সময়ে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ফলে ব্যবসায়ীরা বাজারের চাহিদা ধরতে না পেরে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সীমিত জায়গার কারণে বন্দরে প্রবেশ, শুল্কায়ন, পণ্য খালাস ও ছাড় করার প্রতিটি ধাপেই নানামুখী ব্যবহারিক ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
আমদানিকারক রওশান আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রে এই ধরনের সার্বক্ষণিক অব্যবস্থাপনা আমাদের চরম মানসিক ও আর্থিক চাপের মধ্যে রাখছে। ইয়ার্ডে জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে অত্যন্ত কম ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মালামাল খালাস করতে হয়। কোনো কারণে এই সময় পার হলে মোটা অঙ্কের জরিমানা বা ট্রাক ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে, যা ব্যবসার পুঁজি গ্রাস করছে।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আব্দুল আওয়াল বেনাপোল স্থলবন্দরের উদাহরণ টেনে বলেন, যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের যেখানে প্রায় সাড়ে ৩০০ একর জায়গা রয়েছে, সেখানে সোনামসজিদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে জায়গা মাত্র ১৯ একর। এই অল্প জায়গা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনা অসম্ভব।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আমদানিকারকরা এই বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ফলে একসময়ের শীর্ষ এই বন্দরে আমদানি-রপ্তানি হ্রাস পাচ্ছে এবং পুরো অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ছে।
স্থলবন্দর পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের ম্যানেজার মাইনুল জানান, ভোগান্তি কমাতে সরকারের কাছে আরও প্রায় ২২ একর জমি অধিগ্রহণের আবেদন করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও এখনও সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।






