তথ্য না পেয়ে মৎস্য কর্মকর্তাকে পেটানোর অভিযোগ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নড়াইল
তথ্য না পেয়ে মৎস্য কর্মকর্তাকে পেটানোর অভিযোগ
নড়াইল থানা। ছবি: সংগৃহীত

নড়াইল সদরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের অফিসকক্ষে ঢুকে ভাঙচুর, সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা ও মারধরের অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।

Advertisement

রোববার (২৮ জুন) রাতে মো. জিসানুর রহমান নামে এক যুবকের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন মৎস্য কর্মকর্তা।

অভিযুক্ত জিসানুর সদর উপজেলার যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে। ভুক্তভোগী মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগরে।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণে মৎস্য কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, সদর উপজেলা পরিষদ ভবনের তৃতীয়তলায় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় রয়েছে। জিসানুর নামে এক যুবক মাঝে মধ্যেই অফিসে গিয়ে অফিসের গোপনীয় বিভিন্ন তথ্য চান। তার চাহিদা অনুযায়ী অফিসের গোপনীয় তথ্য না দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালিগালাজ করেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, সবশেষ গতকাল রোববার (২৮ জুন) বিকেলে চার থেকে পাঁচজনকে সঙ্গে নিয়ে মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন অভিযুক্ত জিসানুর। এ সময় তারা নড়াইল জেলার সকল সুবিধাভোগী সদস্যদের প্রদর্শনী তালিকা দাবি করেন। আগেও এ তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে বলা হলে জিসানুর ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধর করেন এবং সরকারি ডেস্কটপ ও মনিটর ভেঙে ফেলেন।

এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (সদর) মো. আবু রায়হান বলেন, জিসানুর বেশ কিছুদিন ধরেই আমার কার্যালয়ে এসে ঝামেলা করছেন। তিনি প্রদর্শনী বরাদ্দের দাবি করেছেন, কিন্তু যে কোনো বরাদ্দ একটা কমিটির মাধ্যমে চূড়ান্ত করে দেওয়া হয়। এখানে এমনভাবে কোনো বরাদ্দই আমার দেওয়ার সুযোগ নেই। আমি বিষয়টি বারবার বুঝিয়ে বলার পরও তিনি সবসময় এসে অহেতুক ঝামেলা করেন। আর সবশেষ তিনি আমার অফিসে এসে ভাঙচুর-মারধর করে গেছেন। আমি থানায় মামলা করেছি।

তবে জিসানুর সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্রামের কৃষক শ্রেণির লোকজন নিয়েই আমাদের ওঠাবসা। বিভিন্ন সময়ে উপজেলা অফিসে কাজে যেতে হয়। মৎস্য কর্মকর্তার অফিসে কোনো তথ্যের জন্য গিয়েও সেটা ঠিকমতো পাওয়া যায় না। বরং তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করে তাড়িয়ে দেন। তার অফিসের কর্মচারীদের কাছে খোঁজ নিলেও তার ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পারবেন।

তিনি বলেন, রোববার বিকেলে কিছু তথ্যের জন্য গিয়েছিলাম। কোনো ধরনের সহযোগিতা না করে বরং মৎস্য কর্মকর্তা রায়হান অকারণে গালিগালাজসহ অশালীন আচরণ করেছেন। তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাব দেখান। তার অপেশাদার আচরণ, গালিগালাজসহ সব আমি মোবাইল ফোনে রেকর্ড করি। তিনি তার চেয়ার থেকে উঠে এসে আমার ফোন হাত থেকে কেঁড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। এ সময় আমাকে মারধর করেন, আমি নিজে বাঁচার চেষ্টা করি। ধস্তাধস্তির সময় তার নিজের হাতের ধাক্কায় কম্পিউটার নিচে পড়ে ভেঙে যায়। তারা অফিসের বেশ কয়েকজন মিলে আমাকে মেরেছেন। তখন অফিসে আমাকে মারধরের পর মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এখন শুনলাম আমার নামে মামলা করেছেন।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, আমরা জানার পরই ঘটনাস্থল তাৎক্ষণিক পরিদর্শন করি। এ ঘটনায় মৎস্য কর্মকর্তার এজাহারের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। আসামি ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

বিষয় :নড়াইল