যোগদানের পর ১১৩ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত চিকিৎসক

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর কার্যত দায়িত্ব পালন না করেই টানা ১১৩ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পর বদলির আদেশ হাতে ছাড়পত্র নিতে হাসপাতালে হাজির হলে বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একই সময়ে অর্থোপেডিকস বিভাগের চিকিৎসক না থাকায় সাধারণ রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. সিমুনা সিরাজ মীম রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন (অর্থোপেডিকস ও ট্রমাটোলজি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। যোগদানের পর ২২ ফেব্রুয়ারি মাত্র এক দিন দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত নৈমিত্তিক ছুটিতে ছিলেন। ২ ও ৩ মার্চ বিলম্বে কর্মস্থলে উপস্থিত হলেও ৪ মার্চ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত আর হাসপাতালে আসেননি। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে তার অননুমোদিত অনুপস্থিতি ছিল ১১৩ দিন। এর মধ্যে ১৬ মার্চ এক দিন বিলম্বে উপস্থিতির তথ্য বায়োমেট্রিক হাজিরায় পাওয়া গেছে।
দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে তিন দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। তবে তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বিষয়টি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে জানানো হয়। একই সঙ্গে বায়োমেট্রিক হাজিরার তথ্যসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্রও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন অর্থোপেডিকস বিভাগের চিকিৎসক না থাকায় হাড়ভাঙা, দুর্ঘটনায় আহত এবং অন্যান্য অর্থোপেডিকস-সংক্রান্ত রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে যেতে হয়েছে। এতে সময়ের পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল খায়ের মাহমুদ বলেন, আমরা একাধিকবার তাকে কর্মস্থলে যোগদানের জন্য তাগিদ দিয়েছি। মোবাইল ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি নিয়মিত দায়িত্বে ফেরেননি। পরে গত সোমবার সকালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলির আদেশ নিয়ে ছাড়পত্রের জন্য আসেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. সিমুনা সিরাজ মীম বলেন, আমি অসুস্থ ছিলাম এবং আমার ছোট সন্তান রয়েছে। এসব কারণে ছুটির আবেদন করেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলাম। বর্তমানে আমাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে।





