ফেসবুকে অস্ত্রের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ, সীমান্ত থেকে যুবক আটক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অস্ত্রের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হেলাল আহমদ (২০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক হেলাল আহমদ দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের জুমগাঁও-খাসিয়াবাড়ি এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে।
পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইদ্রিস আলীর ছেলে সুজন মিয়া সম্প্রতি তার ফেসবুক স্টোরিতে সীমান্ত এলাকায় অস্ত্রসহ মহড়া দেওয়ার একটি ছবি প্রকাশ করেন। এরপরই ভারতীয় খাসিয়াদের সঙ্গে অস্ত্র নিয়ে মহড়া ও সেলফি তোলার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে হাতে ব্যাগ ও কাঁধে একনলা বন্দুক নিয়ে সাতজনকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে পেছনের দুজন জুমগাঁও-খাসিয়াবাড়ি এলাকার যুবক, যাদের হাতেও বন্দুক ছিল। বিষয়টি বিজিবির সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের নজরে এলে তারা পুলিশকে অবহিত করে। এরপর পুলিশ সুজন মিয়ার ভাই হেলাল আহমদকে আটক করে।
স্থানীয়রা জানান, জুমগাঁও-খাসিয়াবাড়ি এলাকার ওসমান মিয়ার ছেলে আব্দুর রহিম এবং হেলাল আহমদ বন্দুক কাঁধে নিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। আর হেলালের ভাই সুজন মিয়া সেলফি ভিডিও প্রকাশ করেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর হেলাল আহমদ আটক হলেও বাকি দুজন গা-ঢাকা দিয়েছেন। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল কাদির বলেন, যারা ফেসবুকে ছবি ও ভিডিও দিয়েছে, তারা সীমান্তের কাছাকাছি ভারতের খাসিয়াদের সুপারি বাগানে কাজ করে। তারা শখ করে খাসিয়াদের বন্দুক নিয়ে ছবি ও ভিডিও তুলে ফেসবুকে দেওয়ার পর তা ভাইরাল হয়ে যায়।
বিজিবির সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির বলেন, ফেসবুকে অস্ত্রের ছবি প্রকাশের বিষয়টি নজরে আসার পরপরই পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে একজনকে আটক করেছে। অস্ত্রের ছবি তোলার জায়গাটি ভারতের অভ্যন্তরে এবং অস্ত্রগুলো খাসিয়াদের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে গিয়ে এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়টি বিজিবি খতিয়ে দেখছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, ফেসবুকে অস্ত্রের ছবি প্রকাশের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ঘটনাস্থল ভারতের অভ্যন্তরে এবং অস্ত্রগুলো ভারতীয়দের। তবে পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে।





