বাঘাইছড়িতে ধসে পড়েছে সড়ক, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সড়ক ধসে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দিঘীনালা সড়কের তিন কিলোমিটার নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে সড়টিতে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
সড়ক ধসের কারণে বাঘাইছড়ির সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। এ সময় একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সও আটকা পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ার পর পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে মারিশ্যা তিন কিলোমিটার নামক এলাকায় সড়কের নিচের মাটি সরে যায়। একপর্যায়ে সড়কের বড় একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে বাঘাইছড়ির প্রধান সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয়রা। জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়েও বিপাকে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। দ্রুত সংস্কার করা না হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যপরিবহন ব্যাহত হবে, যার প্রভাব পড়বে বাজারে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবুল কাশেম বলেন, সকালে খাগড়াছড়ি যাওয়ার জন্য বের হয়ে দেখি রাস্তা ভেঙে গেছে। কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। আমাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
বিমল চাকমা বলেন, আমার বাবা খাগড়াছড়ি হাসপাতালে মারা যান। হাসপাতাল থেকে বাঘাইছড়ি আনার পথে আমাদের এখানে নেমে যেতে হয়েছে। রাস্তা বন্ধ থাকায় বাসা পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যেতে পারছি না। পরে কয়েকজন মিলে হাতে ধরে সড়টি পার হয়ে কিছুদূর হেঁটে পরে অন্য একটি গাড়িতে নিয়ে যেতে হয়েছে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক মো. হুমায়ুন বলেন, গত বছর একই জায়গায় রাস্তাটি ভেঙে গেলে সড়ক ও জনপদ বিভাগ দায়সারা কাজ করে। এই কাজের ফলে এবারও রাস্তাটি ভেঙে গেছে। যার ফলে বাঘাইছড়ির হাজারো মানুষের এই দুর্ভোগ্য পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী প্রিয়দর্শী চাকমা বলেন, বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জায়গায় পানি ওঠায় আমরা স্পটে যেতে পারিনি। তবে আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। আমরা চেষ্টা করছি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে সেফটি গ্রেড ওয়াল দেওয়ার, এতে স্থায়ী একটা সমাধান হতে পারে।





