টাকা দিয়েও মুক্তি পাননি শাহিন

এক সপ্তাহ আগের ঘটনা। মো. শাহিন বাসা থেকে বের হয়েছিলেন কর্মস্থলের উদ্দেশে। সন্ধ্যায় বের হওয়ার পর রাতে একবার মেয়ের সঙ্গে কথা হয়। এরপর থেকে এক সপ্তাহ ধরে খোঁজ নেই ঢাকার কেরানীগঞ্জের এই ডেকোরেটর ব্যবসায়ীর। এ সময়ের মধ্যে তাকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। মুক্তির জন্য দাবি করা হয়েছিল নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা। সেই টাকা দেওয়ার পরও মুক্তি পাননি শাহিন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শাহিন কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ নয়াবাড়ি এলাকার শহিদুল্লাহ বেপারীর ছেলে। তিনি চুনকুটিয়া বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় ডেকোরেটর ব্যবসা করেন। গত সোমবার (১৫ জুন) তিনি নিখোঁজ হন। তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। এর দুই দিন পর বুধবার (১৭ জুন) অপহরণকারীরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু মুক্তিপণ দেওয়ার পরও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি।
পুলিশ জানায়, তদন্তে উঠে এসেছে—১৫ জুন সন্ধ্যায় কর্মস্থলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন শাহিন। রাত সোয়া ৯টার দিকে বাড়িতে ফোন করে মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তখন মেয়েকে বলেছিলেন, তিনি দোকানেই আছেন। তবে প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, ওই সময় তার অবস্থান দোকানে ছিল না; বরং পাশের হিজলতলা এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করা গেছে।
শাহিনের বড় ভাই শফিকুল ইসলাম জানান, গত ১৫ জুন সন্ধ্যার পর থেকে তার ছোট ভাই নিখোঁজ। রাতে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
তিনি আরও জানান, নিখোঁজের দুই দিন পর ১৭ জুন শাহিনের ফোন থেকে তার শ্যালিকা জুঁইয়ের কাছে একটি কল আসে। অপহরণকারীরা পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং পুলিশকে জানালে শাহিনকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে অনুরোধের পর তারা ৫০ হাজার টাকা নিতে রাজি হয় এবং টাকা নিয়ে রাজেন্দ্রপুর স্টিল ব্রিজের নিচে যেতে বলে। সেখানে যাওয়ার পর বলা হয়, ‘টাকা ব্রিজের রেলিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে যান, কিছুক্ষণ পর শাহিন বাড়ি চলে যাবে।’ কিন্তু টাকা দিয়ে আসার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও শাহিন বাড়ি ফেরেননি।
এ বিষয়ে জিডির তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জাকির হোসেন বলেন, ‘পরিবারের লোকজন যখন মুক্তিপণের টাকা নিয়ে রাজেন্দ্রপুর গিয়েছিল, তখন আমি অন্য একটি দায়িত্বে ছিলাম। আমি তাদের বলেছিলাম অপরাধীদের দেখামাত্র আমাকে জানাতে, যেন তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো যায়।’
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও এ বিষয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।







