বিদেশ থেকে ফিরে ড্রাগন চাষ, তাতেই ভাগ্য বদলাল সাদেকের

কক্সবাজারের টেকনাফে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন প্রবাস ফেরত জাফর সাদেক। প্রায় ১৮ মাস আগে আট লাখ টাকা বিনিয়োগে শুরু করা তার ড্রাগন বাগানে এখন ভালো ফলন হয়েছে। এতে তিনি যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন, তেমনি স্থানীয় কৃষকদের কাছে জাফর হয়ে উঠেছেন অনুকরণীয় উদ্যোক্তা।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের জিনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জাফর সাদেক ১৬ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরেন। এরপর মনোনিবেশ করেন কৃষিকাজে। প্রায় তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে তিনি শুরু করেন ড্রাগন ফল চাষ।
জাফর সাদেক বলেন, একবার ড্রাগন গাছ রোপণ করলে সারা বছরই ফল পাওয়া যায়। যদিও বর্তমানে সার, ওষুধ, সেচ, আগাছা পরিষ্কার ও শ্রমিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। বর্তমানে বাগানে উৎপাদিত ফল স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সব খরচ বাদ দিয়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৩ লাখ টাকা লাভ করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রবাস থেকে ফিরে কিছু একটা করার চিন্তা থেকেই ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করি। শুরুতে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু এখন বাগানে ভালো ফলন হওয়ায় অনেকেই দেখতে আসছেন এবং চাষাবাদের বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন।
জাফর বলেন, তার বাগানে বর্তমানে তিনজন কর্মচারী সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। তিনি নিজেও নিয়মিত বাগানের পরিচর্যা করেন। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে দুই থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যাচ্ছে। উৎপাদন ও আয় বাড়ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে টেকনাফে প্রথমবার ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক চাষ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই বাগান দেখতে ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম বলেন, টেকনাফে প্রথমবারের মতো ড্রাগন ফলের চাষ দেখলাম। এটি আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। জাফর সাদিকের সাফল্য দেখে অনেকেই কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার উৎসাহ পাবেন। এ ধরনের উদ্যোগ বাড়লে যুবসমাজ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফল উৎপাদন বাড়বে এবং এলাকার নেতিবাচক ভাবমূর্তিও পরিবর্তন হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ূন কবীর বলেন, জাফর সাদিক এ এলাকায় প্রথমবারের মতো ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক চাষ করে সাহসী উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি লাভের মুখ দেখেছেন। কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষিত ও বেকার যুবকরা যদি আধুনিক কৃষির দিকে ঝুঁকে পড়েন, তাহলে স্বল্প সময়েই তারা স্বাবলম্বী হতে পারবেন।







