যেভাবে আজই শেষ ৩২ নিশ্চিত করতে পারে আর্জেন্টিনা

আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা গ্রুপ ‘জে’-এর শীর্ষে আছে। আজ তাদের সামনে অস্ট্রিয়া। এই ম্যাচ জিতলে শেষ ৩২-এর দরজা অনেকটাই খুলে যাবে, তবে গ্রুপের সেরা দুইয়ে গাণিতিকভাবে জায়গা নিশ্চিত করতে আরও একটি ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে মেসিদের।
আর্জেন্টিনার হিসাবটা সহজ, তবে এক ধাপের নয়। অস্ট্রিয়াকে হারালে স্কালোনির দল ৬ পয়েন্টে পৌঁছে যাবে। কিন্তু আজই গ্রুপের সেরা দুইয়ে জায়গা নিশ্চিত করতে হলে পরে জর্ডান-আলজেরিয়া ম্যাচে জর্ডানকে জয়বঞ্চিত থাকতে হবে। অর্থাৎ জর্ডান-আলজেরিয়া ম্যাচ ড্র হলে অথবা আলজেরিয়া জিতলে আর্জেন্টিনা এক ম্যাচ হাতে রেখেই অন্তত গ্রুপের সেরা দুই নিশ্চিত করবে।
কারণ তখন গ্রুপে আর্জেন্টিনার পয়েন্ট হবে ৬। অস্ট্রিয়া থাকবে ৩ পয়েন্টে। জর্ডান যদি আলজেরিয়াকে হারাতে না পারে, তাহলে শেষ রাউন্ডের আগে দুই দল একসঙ্গে আর্জেন্টিনাকে টপকে যাওয়ার অবস্থানে থাকবে না। সে ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার জায়গা অন্তত সেরা দুইয়ে নিশ্চিত হয়ে যাবে।
কিন্তু অস্ট্রিয়াকে হারানোর পরও যদি জর্ডান আলজেরিয়াকে হারায়, তাহলে আর্জেন্টিনা কার্যত অনেকটাই নিরাপদ থাকলেও গ্রুপের সেরা দুই গাণিতিকভাবে নিশ্চিত বলা যাবে না। তখন আর্জেন্টিনা ৬, অস্ট্রিয়া ৩, জর্ডান ৩ ও আলজেরিয়া ০ পয়েন্টে থাকবে। শেষ ম্যাচে জর্ডান যদি আর্জেন্টিনাকে হারায় এবং অস্ট্রিয়া আলজেরিয়াকে হারায়, তাহলে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান, তিন দলই ৬ পয়েন্টে শেষ করতে পারে। তখন টাইব্রেকারের জটিলতা তৈরি হবে।
নতুন ৪৮ দলের বিশ্বকাপে প্রতি গ্রুপের সেরা দুই দল সরাসরি শেষ ৩২-এ যাবে। পাশাপাশি ১২ গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা আট দলও নকআউটে উঠবে। তাই ৬ পয়েন্ট পেলে আর্জেন্টিনার বাদ পড়া বাস্তবিক অর্থে কঠিন। তবে গ্রুপের সেরা দুইয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তার জন্য আজ তাদের শুধু নিজেদের জয় নয়, জর্ডান-আলজেরিয়া ম্যাচের ফলও দরকার।
অন্যদিকে অস্ট্রিয়ার সঙ্গে ড্র করলে আজই আর্জেন্টিনার সেরা দুই নিশ্চিত হবে না। তখন আর্জেন্টিনার পয়েন্ট হবে ৪, অস্ট্রিয়ারও ৪। শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে অন্তত পয়েন্ট নিতে হবে, অথবা অন্য ফলের দিকে তাকাতে হবে। ড্র মন্দ ফল নয়, কিন্তু গ্রুপসেরা হওয়ার পথও তখন পুরোপুরি নিরাপদ থাকবে না।
অস্ট্রিয়ার কাছে হারলে আর্জেন্টিনার হিসাব আরও কঠিন হবে। তখন অস্ট্রিয়া ৬ পয়েন্টে চলে যাবে, আর্জেন্টিনা থাকবে ৩ পয়েন্টে। শেষ ম্যাচে জর্ডানকে হারানো তখন প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে। ৬ পয়েন্টে শেষ করলে নকআউটের আশা শক্তিশালী থাকবে, কিন্তু গ্রুপসেরা হওয়ার পথ অনেকটাই হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।
আর্জেন্টিনার জন্য গ্রুপসেরা হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আরেক কারণে। গ্রুপ ‘জে’-এর দ্বিতীয় দল শেষ ৩২-এ খেলবে গ্রুপ ‘এইচ’-এর চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে। সেই গ্রুপে স্পেন সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে হারিয়ে আবারও নিজেদের ফেভারিট পরিচয় ফিরিয়ে এনেছে। তাই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পয়েন্ট হারালে আর্জেন্টিনার সামনে শেষ ৩২-এ স্পেনের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বর্তমান অবস্থায় গ্রুপ ‘জে’-এর চিত্র হলো, আর্জেন্টিনা ৩ পয়েন্ট ও +৩ গোল পার্থক্য নিয়ে শীর্ষে, অস্ট্রিয়া ৩ পয়েন্ট ও +২ গোল পার্থক্য নিয়ে দ্বিতীয়। জর্ডান ও আলজেরিয়া এখনো পয়েন্ট পায়নি। আজকের দুই ম্যাচের পর গ্রুপের নকআউট হিসাব অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
আর্জেন্টিনার সবচেয়ে ভালো সমীকরণ তাই পরিষ্কার, অস্ট্রিয়াকে হারাও, এরপর জর্ডান যেন আলজেরিয়াকে না হারায়। তাহলেই এক ম্যাচ হাতে রেখে সেরা দুই নিশ্চিত। একই সঙ্গে গ্রুপসেরা হওয়ার পথও নিজেদের হাতে থাকবে।
মেসিদের জন্য আজকের ম্যাচ তাই শুধু দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচ নয়। এটি নকআউটের দরজা খোলার সুযোগ, একই সঙ্গে স্পেন-ঝুঁকি এড়ানোরও বড় ধাপ। জয় পেলে স্বস্তি, জর্ডান পয়েন্ট হারালে সেরা দুই নিশ্চিত। আর ভুল করলে গ্রুপের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।






