ড্রেসিংরুমে ধন্যবাদবার্তা রেখে লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়ল ইরান

বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে একটি হাতে লেখা বার্তা রেখে গেছে ইরান দল। শহরটির আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সেই বার্তায় ইরান লিখেছে, তারা লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছিল গর্ব নিয়ে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে সম্মান নিয়ে, আর ফিরছে মর্যাদা নিয়ে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’-এর ম্যাচে বেলজিয়ামকে ০-০ গোলে আটকে দিয়ে শেষ ৩২-এর আশা বাঁচিয়ে রেখেছে ইরান। ম্যাচ শেষে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রকাশ করা হাতে লেখা নোটে শুধু ধন্যবাদ নয়, ছিল নিজেদের পরিচয়, সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং শান্তির বার্তাও।
নোটে প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের ইরান পর্যন্ত দেশের চেতনা জীবন্ত ও অটল থাকার কথা বলা হয়। এরপর লস অ্যাঞ্জেলেসকে আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। বার্তায় আরও বলা হয়, ইরান গর্ব নিয়ে এসেছে, সম্মান নিয়ে লড়েছে এবং মর্যাদা নিয়ে ফিরছে।
বেলজিয়াম ম্যাচটি ইরানের জন্য শুধু একটি ড্র ছিল না। এই বিশ্বকাপে শুরু থেকেই দলটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে আছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে ইরান দল বেস করেছে মেক্সিকোর তিহুয়ানায়। ম্যাচের জন্য সীমিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা, খেলা শেষ করে আবার ফিরে যাওয়া, এই রুটিনই তাদের লস অ্যাঞ্জেলেস অধ্যায়ের বাস্তবতা।
লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরান দুটি ম্যাচ খেলেছে। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ ড্র, এরপর বেলজিয়ামের বিপক্ষে ০-০। দুই ম্যাচের পর তাদের পয়েন্ট ২। পরে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে মিসর ৪ পয়েন্টে গ্রুপের শীর্ষে উঠে যাওয়ায় শেষ ম্যাচে ইরানের সামনে এখন আরও পরিষ্কার হিসাব। মিসরকে হারাতে পারলে শেষ ৩২-এর দরজা তাদের জন্য অনেকটাই খুলে যাবে।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে ইরানের নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। একের পর এক সেভে তিনি বেলজিয়ামকে আটকে রাখেন। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাক্সিম দে কুইপারের কাছ থেকে নেওয়া তাঁর অবিশ্বাস্য সেভ ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হয়ে ওঠে। বেলজিয়াম ১০ জনে নেমে যাওয়ার পরও ইরান অতিরিক্ত ঝুঁকি নেয়নি, বরং নিজেদের নকআউট আশা বাঁচানো পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে।
মাঠের বাইরে ইরানের ভ্রমণ জটিলতা নিয়ে আগেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কোচ আমির গালেনোই। তাঁর দাবি, তাঁর দলকে এমন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে, যা অন্য কোনো দলকে সহ্য করতে হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অবশ্য বলেছেন, ইরান দলের ভ্রমণ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এসব জটিলতার মধ্যেই লস অ্যাঞ্জেলেসে দুই ম্যাচ খেলে ইরানের বিদায়ী বার্তা ছিল কূটনৈতিক ও আবেগঘন। নোটে ইরান সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানানো হয়, যারা দলকে হৃদয়, কণ্ঠ ও আত্মা দিয়ে সমর্থন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শেষে ছিল সব জাতির মধ্যে শান্তি, সম্মান ও বন্ধুত্বের আহ্বান।
এই বার্তাটি ইরানের বিশ্বকাপ অভিযানের চরিত্রকেও ফুটিয়ে তোলে। মাঠে তারা লড়েছে শৃঙ্খলা ও সাহস নিয়ে, মাঠের বাইরে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে মর্যাদার ভাষায়। বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে আটকে দেওয়ার পর ড্রেসিংরুমে রেখে যাওয়া সেই নোট যেন ইরানের পুরো যাত্রার প্রতীক হয়ে রইল।
এখন ইরানের সামনে শেষ গ্রুপ ম্যাচ। প্রতিপক্ষ মিসর, ভেন্যু সিয়াটল। লস অ্যাঞ্জেলেস অধ্যায় তারা শেষ করেছে দুই ড্র ও একটি বার্তা দিয়ে। তিহুয়ানায় ফিরে যাওয়ার আগে সেই বার্তার মূল কথা ছিল পরিষ্কার, ইরান লড়াই করেছে সম্মান নিয়ে, আর বিশ্বকাপের পথ ছাড়ছে না এখনো।






