ফেতে দ্য লা মিউজিকে বাংলা গানের সুরে মুখর প্যারিস

বিশ্বের বিভিন্ন জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছরের মতো এবারও ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সঙ্গীত উৎসব ‘ফেতে দ্য লা মিউজিক’। রোববার (২১ জুন) অনুষ্ঠিত সঙ্গীতপ্রেমীদের এই মহোৎসবে ফরাসি শিল্পীদের পাশাপাশি অংশ নেন প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পীরাও।
ফরাসি ভাষায় ‘ফেতে দ্য লা মিউজিক’-এর অর্থ ‘সঙ্গীতের উৎসব’। ১৯৮২ সালে ফ্রান্সের তৎকালীন সংস্কৃতিমন্ত্রী জ্যাক ল্যাং ও সঙ্গীত প্রশাসক মরিস ফ্লোরের উদ্যোগে এ উৎসবের সূচনা হয়। সঙ্গীতকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।
উত্তর গোলার্ধে বছরের দীর্ঘতম দিন ২১ জুনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই উৎসবে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তা, পার্ক, উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলো পরিণত হয় সঙ্গীতের প্রাণবন্ত মঞ্চে। দিনভর ও গভীর রাত পর্যন্ত চলে বিভিন্ন ধারার গান ও বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনা।
এ বছর প্যারিসের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগেও অনুষ্ঠিত হয় একাধিক সাংস্কৃতিক ও সঙ্গীত অনুষ্ঠান। এসব অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড জলের গানের সদস্য এবং বর্তমানে ফ্রান্সপ্রবাসী শিল্পী রাহুল আনন্দ সংগীত পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। এছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন জয়া বর্মন, ইমতিয়াজ আহমেদ রনি এবং ফ্রান্সে বসবাসরত আরও অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পী।
আয়োজকদের মতে, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ও সংগীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনুষ্ঠানে বাংলা লোকসংগীত, আধুনিক গান এবং বিশ্বসঙ্গীতের নানা ধারা উপস্থাপিত হয়।
ফেতে দ্য লা মিউজিকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক চরিত্র। এখানে পেশাদার ও শখের শিল্পীদের মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। যে কেউ উন্মুক্ত স্থানে বিনামূল্যে সঙ্গীত পরিবেশন করতে পারেন এবং দর্শকরাও বিনা মূল্যে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। ধ্রুপদি সঙ্গীত, লোকসংগীত, জ্যাজ, রক, পপ, র্যাপ, হিপ-হপ থেকে শুরু করে আধুনিক ইলেকট্রনিক সঙ্গীত পর্যন্ত সব ধরনের সঙ্গীতই এই উৎসবে সমান গুরুত্ব পায়।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে উদযাপিত এই উৎসব আজ ফ্রান্সের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ও ব্যস্ত জীবনের এই সময়ে সঙ্গীতের মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করার অনন্য উদ্যোগ হিসেবে ‘ফেতে দ্য লা মিউজিক’ বিশ্বজুড়ে সম্প্রীতি, বৈচিত্র্য ও মানবিক ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে যাচ্ছে।
সঙ্গীতের সার্বজনীন শক্তিকে উদযাপন করা এই উৎসব আবারও প্রমাণ করেছে, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও সুরের বন্ধনে মানুষ সবসময় এক ও অভিন্ন।






