৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর মুক্ত এমপিপুত্র সজীব

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খায়রুল ইসলাম সজীবকে প্রায় ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রোববার (২১ জুন) রাত দেড়টার দিকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয় থেকে তাকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুচলেকা নেওয়ার পর সজীবকে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সোমবার (২২ জুন) ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খায়রুল ইসলাম সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে তাকে আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
অভিযোগের বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।
চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিবিপ্রধান বলেন, আমরা কোনো কিছুই উড়িয়ে দিচ্ছি না।
পুলিশ সূত্র জানায়, রোববার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সজীবকে হেফাজতে নেয়।
পরে বিকেল ৫টার দিকে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সজীবের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও কাঁচপুর এলাকার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছ থেকে প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ওঠে।
এ ছাড়া সম্প্রতি একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি এবং দাবি পূরণ না হওয়ায় পণ্যবাহী যানবাহন আটকে রাখার অভিযোগও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগের কাছে জমা পড়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
এদিকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার পরপরই খায়রুল ইসলাম সজীবকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে যুবদল।
সজীব নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সুনির্দিষ্ট অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সজীবের কোনো ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড বা অপকর্মের দায় সংগঠন বহন করবে না।







