সুনামগঞ্জে কমছে নদনদীর পানি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জে কমছে নদনদীর পানি
সুরমা নদীতে নৌকায় দুই জনকে দেখা যাচ্ছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সুনামগঞ্জের সুরমা, রক্তি, জাদুকাটা, বোলাইসহ অন্যান্য নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় রোববার রাত থেকে সোমবার (২২ জুন) সকাল পর্যন্ত নদনদীর পানি কমতে দেখা যায়।

Advertisement

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, রোববার দিনের বেলা সুরমা নদীর পানি ৭৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়। রাতে বৃষ্টি না হওয়ায় সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৫ সেন্টিমিটার পানি কমেছে।

সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে ৭.১৮ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল।

পাহাড়ি ঢলের পানিতে রক্তি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রোববার দুপুরে তলিয়ে যায় সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা ও দুর্গাপুর গ্রামের সড়ক। পানি সরে যাওয়ায় সোমবার সকাল এসব সড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে। ঢলের পানি না আসায় সীমান্তের কোনো এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়নি।

তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের চারাগাঁও শাখার সচিব আশরাফুল ইসলাম আকাশ বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানিতে রোববার তাহিরপুর সীমান্তে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীর কয়লা ঢলের পানিতে ভেসে গেছে। অন্তত ৩০০ বাড়িঘর ও রাস্তাঘাটের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় ঢল বন্ধ হয়েছে এবং সীমান্তের লোকজনের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া সোমবার সকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে সুনামগঞ্জ শহরে এসেছেন। তিনি বলেন, শক্তিয়ারখলা ও দুর্গাপুর গ্রামের কাছ দিয়ে সুনামগঞ্জে এসেছি। সড়কে কোনো পানি পাইনি।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে যাওয়ায় তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর এলাকায় যান চলাচল শুরু হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মানুন হাওলাদার বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় এলাকায় আরও দুই দিন ভারী বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় ও পাহাড়ি ঢলের পানি কম আসায় সুরমা ও অন্যান্য নদনদীর পানি কিছু কমেছে এবং বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হাওরে পর্যাপ্ত পানি ধারণক্ষমতা থাকায় নদীর পানি হাওরে প্রবেশ করছে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।