শিক্ষার্থী নির্জনা হত্যা/মায়ের জবানবন্দি আদালতে, জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বাবাকে

শিক্ষার্থী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারকে তদন্তের আওতায় এনেছে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে নিহতের মা সীমা আক্তারকে আটক করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে নিহতের বাবা মো. আলীম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি পুলিশ।
গত বুধবার (৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা মহানগরীর সদর থানাধীন নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কের একটি সাততলা ভবনের সামনে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় দশম শ্রেণির ছাত্রী নির্জনার মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা সদর থানা পুলিশ। পরে মরদেহটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মরদেহের ছবি দেখে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন তার মা। নিহত নির্জনা নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২১ এপ্রিল তেরখাদা উপজেলার পালেরহাট আজগরা গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান রনির সঙ্গে নির্জনার বিয়ে হয়। ১৭ দিন পর তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপরও রনির সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। পরিবারের অভিযোগ, রনি কৌশলে ডেকে নিয়ে নির্জনাকে হত্যা করে মরদেহ প্রান্তিকা এলাকায় ফেলে রেখে যেতে পারেন। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে একটি মোটরসাইকেলে বস্তাবন্দি মরদেহ বহনের দৃশ্য পাওয়া গেছে। সেই ফুটেজ, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
খুলনা সদর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মো. সাত্তার জানান, নিহতের মা সীমা আক্তারকে আটক করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের বাবা মো. আলীম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এর আগে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নির্জনাকে অন্য কোথাও হত্যা করে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে প্রান্তিকা এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছে। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ সব দিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দায়ী করা হবে না। আরও বিস্তারিত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে আপনাদের জানানো হবে।




