২৫ কোটির মধ্যে চারা রোপণ করা হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ: প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম

দেশে ২৫ কোটি চারা রোপণের পরিকল্পনার মধ্যে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৭০ লাখ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে বলে জানয়েছেন—পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। গত ২ জুলাই পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার উদ্যোগে এসব গাছের চারা রোপণ করা হয়।
শনিবার (১১ জুলাই) খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে মাসব্যাপী বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এ বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসন ও খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণে সম্পৃক্ত হতে হবে।
তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ ও নগরাঞ্চলের জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ পলিথিনের নির্বিচার ব্যবহার। এ থেকে উত্তরণে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পলিথিনের ব্যবহার কমাতে হবে। তিনি বলেন, পরিবেশ পুনরুদ্ধারে উপকূলীয় এলাকায় প্রায় দুই কোটি কেওড়া গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি খালি জায়গায় ফলজ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক, বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মনিরুজ্জামান, খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম এবং নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি মো. বদরুল আলম রয়েল। স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান।
এর আগে সকালেই প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে খুলনা কালেক্টরেট চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, মাসব্যাপী এ বৃক্ষমেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের স্টলসহ মোট ৬২টি স্টল অংশ নিয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রির পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চলবে।





