বগুড়ায় ৩১ সরকারি দপ্তরের নিজস্ব ভবন নেই, কোটি টাকা ভাড়া গুনছে সরকার

বগুড়া জেলার গুরুত্বপূর্ণ অনেক সরকারি দপ্তরের নিজস্ব ভবন নেই। অন্তত ৩১টি সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম চলছে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া নেওয়া ভবনে। এতে করে শহরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সেবা নিতে গিয়ে নাগরিকদের প্রায়ই এক ভবন থেকে অন্য ভবনে ঘুরতে হয়। এতে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ভাড়া গুনছে সরকার অন্যদিকে সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং ৮১টি অধিদপ্তর রয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সরকারি দপ্তরের নিজস্ব কার্যালয় না থাকায়, এখানে একটি সমন্বিত অফিস ভবন নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের।
বগুড়া গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভাড়া ভবনে পরিচালিত দপ্তরগুলোর মধ্যে রয়েছে- হাইওয়ে পুলিশের বগুড়া রিজিয়নের পুলিশ সুপারের কার্যালয়, কর কমিশনারের কার্যালয় (কর অঞ্চল, বগুড়া), মুখ্য পাট পরিদর্শকের কার্যালয়, জেলা পরিসংখ্যান অফিস, জেলা সমবায় কার্যালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জেলা কার্যালয়, কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা ক্রীড়া অফিস এবং তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়সহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
এসব দপ্তরের মধ্যে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের ভাড়া বাবদ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য। মালতীনগরে ভাড়া ভবনে পরিচালিত জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের জন্য বছরে প্রায় ৬ লাখ টাকা ভাড়া দিতে হয়। একইভাবে জেলা পরিসংখ্যান অফিসের বার্ষিক ভাড়া বাবদ ব্যয় হয় প্রায় ৫ লাখ টাকা।
সরকারি সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সমস্যা সমাধানে বগুড়া শহরে একটি সমন্বিত সরকারি অফিস ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর উদ্দেশ্য একদিকে যেমন সরকারি ব্যয় কমানো, অন্যদিকে বিভিন্ন দপ্তরের সেবা একই ছাদের নিচে এনে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করা। তবে পরিকল্পনাটি এখনো বাস্তবায়নের আলো দেখেনি।
গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শহরের মালতীনগর স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় সরকারি মালিকানাধীন প্রায় ২ দশমিক ৬ একর জমিতে প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুট আয়তনের ১০ তলা সমন্বিত অফিস ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের জন্য ডিজিটাল সার্ভে, স্থানিক বিশ্লেষণ ও স্থাপত্য নকশার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে বগুড়াসহ পাবনা, পটুয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও টাঙ্গাইল জেলার সমন্বিত অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পের ডিপিপি একসঙ্গে পাঠানো হয়। তবে অন্য চার জেলার প্রকল্পে অগ্রগতি হলেও বগুড়ার প্রকল্পটি এখনো ডিপিপি অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে।
এ বিষয়ে বগুড়া গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কাওসার আহমেদ বলেন, ২০২৩ সাল থেকে বগুড়ার সমন্বিত অফিস ভবন নির্মাণের বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। পাঁচ জেলার প্রকল্প একসঙ্গে পাঠানো হলেও বগুড়ার ডিপিপি এখনও অনুমোদন পায়নি। অনুমোদন মিললে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
.png)






