logo
Advertisement
বাইনতলা-খড়িয়া সড়ক

দুই যুগেও মেলেনি সংস্কার, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

এশিয়া পোস্ট নিউজ, খুলনা
দুই যুগেও মেলেনি সংস্কার, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী
ছবি: এশিয়া পোস্ট

দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে কোনো ধরনের সংস্কার না হওয়ায় খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বাইনতলা-খড়িয়া সড়কটি এখন সম্পূর্ণ বেহাল হয়ে পড়েছে। উপজেলার ৬ নম্বর লস্কর ইউনিয়নের এই সড়কটির প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ বর্তমানে চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী। ফলে নিত্যদিনের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় হাজারো মানুষ।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা গেছে, লস্কর ইউনিয়নের বাইনতলা খেয়াঘাট থেকে খড়িয়া খালপাড় অভিমুখে পাইকগাছা জিসি–বাইনতলা বাজার–বগুড়ারচক–গিলাবাড়ি জিসি সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। অনেক জায়গায় সড়ক থেকে মাটি সরে গিয়ে ধস নেমেছে, যা চলাচলকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। বর্ষা বা সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি ও কাদা জমে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।

৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই সড়কটি অত্র এলাকার যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও মৎস্যচাষিসহ হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এখানে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল বলেন, দীর্ঘ প্রায় বিশ বছর ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী পরিবহন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতে গিয়ে মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী অভিজিৎ মন্ডল জানান, আমাদের এলাকায় প্রচুর চিংড়িসহ অন্যান্য সাদা মাছ উৎপাদিত হয়। কিন্তু একমাত্র রাস্তাটি ভাঙাচোরা হওয়ায় মৎস্য আড়তে সঠিক সময়ে মাছ পৌঁছানো যায় না। পরিবহনে দেরি হওয়ার কারণে আমরা প্রায়ই মাছের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম সানা বলেন, সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য আমরা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে, চলতি বছরের মধ্যেই সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাফিন শোয়েব জানান, সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনা করে এটি ইতিমধ্যে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকায় আনা হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের ডিপিপিতে সড়কটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত তালিকায় এটি ২ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।