শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে টাকা ছাড়াও যা পাওয়া গেছে

হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে দ্বিতীয় দফায় গত ১৯ দিনে মোট ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। ৭০০ বছরের ইতিহাসে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্স খুলে পাওয়া অর্থ ও সম্পদ গণনা করা হলো। এবারের দানে শুধু বাংলাদেশি টাকা নয়, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ-রৌপ্য এবং গবাদিপশুও পাওয়া গেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দিনভর গণনা শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এ তথ্য জানান। এর আগে, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে সকাল থেকে দানবাক্স খুলে অর্থ ও সম্পদ গণনা শুরু হয়।
সিসিক প্রশাসক জানান, দানবাক্সে বাংলাদেশি মুদ্রার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে— সৌদি আরবের ১৩৫ রিয়াল, যুক্তরাষ্ট্রের ২০ ডলার, ভারতের ২ হাজার ৫৩২ রুপি, কাতারের ২২ দিরহাম, মালয়েশিয়ার ৬ রিঙ্গিত, হংকংয়ের ২০ ডলার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০ ইউরো, ওমানের ১ দশমিক ৪৫০ দিনার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৪ দশমিক ২০ দিরহাম, ইন্দোনেশিয়ার ৪ হাজার রুপিয়া, পাকিস্তানের ৬০ রুপি এবং সিঙ্গাপুরের ১০ ডলার। এছাড়া দানবাক্স থেকে ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রৌপ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
টাকা ও মুদ্রার বাইরে ভক্তদের দান করা একটি গরু ও ৬৫টি ছাগল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গরু ও ৪০টি ছাগল ইতোমধ্যে রান্না করে মাজারের ঐতিহ্য অনুযায়ী দর্শনার্থী ও অসহায়দের খাওয়ানো হয়েছে। বাকি ২৫টি ছাগল বিক্রি করে পাওয়া গেছে এক লাখ ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, গণনা করা সব অর্থ জেলা প্রশাসকের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে। মাজারের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার আভাস দিয়ে সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার, দরগাহ মসজিদ ও মাদ্রাসার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির পরবর্তী সভা আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এক মাসের মধ্যে আমরা এসব প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় একটি চূড়ান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করব।
দিনভর এই গণনা কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন মাজারের দানবাক্সে তালা দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। পরে ২১ জুন তাকে প্রত্যাহার করা হলে, ২২ জুন তালা খুলে মাত্র চারদিনের জমানো অর্থ গণনা করা হয়। ৭০০ বছরের ইতিহাসে সেটিই ছিল মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রথম প্রকাশ্যে গণনার ঘটনা। সে সময় চারদিনে জমা হওয়া টাকার পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ৬৫ টাকা।




