বৃত্তি পরীক্ষায় অনন্য সাফল্য যমজ তিন বোনের

একই দিনে জন্ম, একই শ্রেণিতে পড়াশোনা এবং এবার একই সঙ্গে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন— বরগুনার তিন বোনের এই অসাধারণ সাফল্য এখন জেলার মানুষের মুখে মুখে। পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সমান দক্ষতা দেখিয়ে তারা হয়ে উঠেছে অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা। ভবিষ্যতে চিকিৎসক ও প্রকৌশলী হয়ে দেশের মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতে চায় তারা।
জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার শিক্ষক দম্পতি চিন্ময় মালদার ও কাজল রানীর ঘর আলো করে একই দিনে জন্ম নেয় তিন কন্যা— অঙ্কিতা, অনুষ্কা ও অন্বেষা। জন্মের পর আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের অনেকেই একটি ছেলে সন্তানের প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে সেই সামাজিক মানসিকতাকে উপেক্ষা করে বাবা-মা তিন কন্যাকেই সমান যত্ন, ভালোবাসা ও শিক্ষার সুযোগ দিয়ে বড় করে তোলেন।
তিন বোনের শিক্ষাজীবনের শুরু বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। একই শ্রেণিতে পড়াশোনা করতে গিয়ে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে এক ইতিবাচক প্রতিযোগিতা। সেই প্রতিযোগিতাই তাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করে তোলে। সর্বশেষ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় তিনজনই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে এক বিরল সাফল্যের নজির স্থাপন করেছে।
শুধু পড়াশোনাতেই নয়, গান, নাচ, আবৃত্তি ও ছবি আঁকাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তারা সমান পারদর্শী। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ইতোমধ্যে তারা একাধিক পুরস্কারও অর্জন করেছে।
অঙ্কিতা, অনুষ্কা ও অন্বেষা বলে, তাদের এই অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান বাবা-মা এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। নিয়মিত দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও নিজেদের পরিশ্রমই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। ভবিষ্যতে তারা চিকিৎসক ও প্রকৌশলী হয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখছে।
তিন কৃতী শিক্ষার্থীর মা গৌরীচন্না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাজল রানী বলেন, শুরুতে অনেকেই ছেলে সন্তান না হওয়ায় নানা নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু আমি কখনও হতাশ হইনি। আমার বিশ্বাস ছিল, সুযোগ ও সঠিক পরিচর্যা পেলে মেয়েরাও সব ক্ষেত্রে সফল হতে পারে। আজ তাদের এই অর্জন আমার সেই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে।
বাবা চিন্ময় মালদার নওয়াব সলিমুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। সন্তানদের এমন সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ছেলে বা মেয়ে কোনো বিষয় নয়, প্রতিটি সন্তানই সমান সম্ভাবনাময়। তাদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা গেলে তারা পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।





