ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালের আগে নিয়ম ভাঙল ফিফা

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইয়ের আগে বিরল এক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টুর্নামেন্টজুড়ে স্টেডিয়ামে অনুমোদনহীন কোনো ব্র্যান্ডের নাম বা লোগো প্রদর্শন না করার কঠোর নীতি থাকলেও, আটলান্টা স্টেডিয়ামের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর করতে পারেনি সংস্থাটি।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করা হলেও ছাদের ওপর থাকা মার্সিডিজ-বেঞ্জের বিশাল লোগো ঢেকে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়ে লোগোটি রেখেই ম্যাচ আয়োজন করতে হচ্ছে ফিফাকে।
ফিফার ‘ক্লিন স্টেডিয়াম’ নীতি অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালে স্টেডিয়ামের ভেতর ও বাইরে অনুমোদনহীন কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম, লোগো বা বাণিজ্যিক প্রচারণা দৃশ্যমান রাখা যায় না। সাধারণত টুর্নামেন্টের আগে এসব সরিয়ে ফেলা বা ঢেকে দেওয়া হয়, যাতে কেবল ফিফার অনুমোদিত স্পনসরদের ব্র্যান্ডিং দেখা যায়।
কিন্তু আটলান্টা স্টেডিয়ামের স্থায়ী স্থাপত্যই এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্টেডিয়ামটির ভাঁজ করা যায় এমন ছাদ আটটি বিশাল অংশ নিয়ে তৈরি। প্রতিটি অংশের ওজন প্রায় ৫০০ টন এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ২২০ ফুট। এই কাঠামোর সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত মার্সিডিজ-বেঞ্জের লোগো নিরাপদে সরানো বা ঢেকে দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্টেডিয়ামের পরিচালন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডাম ফুলারটন ২০২৫ সালের শুরুতে বলেছিলেন, লোগো শুধু ছাদের ওপর নয়, স্টেডিয়ামের বাইরের বিভিন্ন অংশেও রয়েছে। এগুলো ভবনের স্থাপত্য নকশার অংশ হিসেবেই নির্মাণ করা হয়েছে।
এ কারণে বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে ফিফাকে নিজেদের কঠোর নীতিতে ব্যতিক্রম আনতে হয়েছে। পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টে স্টেডিয়ামের ছাদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও বহাল রয়েছে, যাতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য একই ধরনের পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
মাঠের বাইরের এই আলোচনা থাকলেও এখন সবার দৃষ্টি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল লড়াইয়ে। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত এই দ্বৈরথে জয়ী দলই নিশ্চিত করবে বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট।




