মাঠে সবচেয়ে কম দৌড়েও অবদানে সবাইকে ছাড়িয়ে মেসি

বিশ্বকাপে লিওনেল মেসিকে আগের মতো দৌড়াতে খুব একটা দেখা যায় না। তবে মাঠে কম দৌড়ালেও খেলার ওপর তার প্রভাব কমেনি। বরং অভিজ্ঞতা, কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা ও সুযোগ তৈরির দক্ষতায় আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কার্যকর হয়ে উঠেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এবারের বিশ্বকাপে মাঠে অতিক্রম করা মোট দূরত্বের ৪৭ শতাংশ সময়ই হেঁটেছেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি, যা টুর্নামেন্টে আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রতি ৯০ মিনিটে তিনি গড়ে ৮ দশমিক ২ কিলোমিটার দৌড়েছেন এবং প্রতি ম্যাচে স্প্রিন্ট করেছেন মাত্র ২ দশমিক ৭ বার। চার বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৫ দশমিক ৩।
তবে কম দৌড়ালেও আক্রমণে তার অবদান কমেনি। ছয় নম্বর বিশ্বকাপে খেলতে নামা মেসি ইতোমধ্যে আটটি গোল করেছেন এবং করিয়েছেন আরও তিনটি। গোলের সুযোগ তৈরি ও শট মিলিয়ে তার অবদান ৫৪টি, যা ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপে কোনো খেলোয়াড়ের সেরা পরিসংখ্যানের একটি।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন মেসি। বার্সেলোনায় উইঙ্গার হিসেবে শুরু করলেও পরে পেপ গার্দিওলার অধীনে ‘ফলস নাইন’ হিসেবে নতুন পরিচয় পান। এরপর ধীরে ধীরে তিনি আক্রমণভাগের সংগঠক ও সুযোগ সৃষ্টিকারীর ভূমিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
আর্জেন্টিনার হয়েও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে তার মধ্যে। ২০১৪ বিশ্বকাপ ও টানা দুটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারলেও পরে দলকে ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ শিরোপা জেতাতে নেতৃত্ব দেন তিনি।
এবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা মেসিই। কম দৌড়ালেও কখন গতি বাড়াতে হবে, কোথায় বল পৌঁছে দিতে হবে এবং কীভাবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে হবে—এই অভিজ্ঞতাই তাকে এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে আলাদা করে রেখেছে।




