ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ থেকে বেকহ্যামের প্রতিশোধ, বিশ্বকাপে দুই দলের বৈরিতার গল্প

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ থেকে বেকহ্যামের প্রতিশোধ, বিশ্বকাপে দুই দলের বৈরিতার গল্প
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি দুই দলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক ও ফুটবলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাও আবার আলোচনায় উঠে এসেছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিতর্ক, নাটকীয়তা ও স্মরণীয় মুহূর্তে ভরা এই দ্বৈরথকে ফুটবলের অন্যতম তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

দুই দলের বৈরিতার শুরু ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাতিনকে বিতর্কিতভাবে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। সেই ঘটনার পর মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ইংল্যান্ড ম্যাচটি জিতে পরে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে। তবে সেই ম্যাচের বিতর্ক এবং ইংল্যান্ডের তৎকালীন কোচ আলফ রামসের মন্তব্য আর্জেন্টিনার ফুটবলে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের জন্ম দেয়।

এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন মাত্রা পায় ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর। চার বছর পর মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই দল। সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনা করেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত দুটি গোলের একটি—‘হ্যান্ড অব গড’।

একই ম্যাচে তিনি পাঁচজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে করেন ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। আর্জেন্টিনার কাছে সেই জয় ছিল শুধু ফুটবল নয়, যুদ্ধের পর মানসিক প্রতিশোধের প্রতীকও।

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এই লড়াই। শেষ ষোলোর ম্যাচে দিয়েগো সিমেওনেকে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখেন ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যাম। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ২–২ গোলে শেষ হলেও টাইব্রেকারে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।

চার বছর পর ২০০২ বিশ্বকাপে অবশ্য বেকহ্যামের পেনাল্টির গোলে ১–০ ব্যবধানে জিতে সেই হতাশার কিছুটা জবাব দেয় ইংল্যান্ড।

দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা হচ্ছে দুই দলের। এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে তারা। তবে অতীতের উত্তেজনা নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে চান না দুই দলের বর্তমান খেলোয়াড় ও কোচরা।

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ, এর বাইরে অন্য কিছু নয়। একই সুর শোনা গেছে মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পলের কণ্ঠেও। তার মতে, অতীতের স্মৃতি থাকলেও দলের একমাত্র লক্ষ্য ফাইনালে ওঠা।

তবু ইতিহাস বলছে, ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনা ম্যাচ কখনোই শুধু ৯০ মিনিটের ফুটবল নয়। প্রতিবারের মতো এবারও মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি অতীতের স্মৃতি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও আবেগ ঘিরে বাড়তি আগ্রহ থাকছে ফুটবলপ্রেমীদের।