গাইবান্ধায় নিজ বাড়িতে কৃষককে গলা কেটে হত্যা

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে শাহজালাল নামের এক কৃষকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) রাতে উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কঞ্চিপাড়া (মাঝিপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হত্যার শিকার শাহজালাল ওই গ্রামের মৃত নিয়ামত উল্লার ছেলে। পেশায় তিনি কৃষক ছিলেন এবং পাশাপাশি বাঁশের কাজ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও স্বাভাবিকভাবে রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়েন শাহজালাল। তার স্ত্রী মূল ঘরে এবং শাহজালাল বারান্দার আলাদা টিনের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে গোঙানির শব্দ পান শাহজালালের স্ত্রী গোলেদা বেগম। পরে বারান্দার কক্ষে গিয়ে স্বামীর গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান তিনি।
শাহজালালের ছেলে অটোচালক পাঞ্জু মিয়া বলেন, বারান্দার রুমের দরজার মোকা কেটে ঢুকে আমার বাবাকে গলা কেটে খুন করা হয়েছে। তার অভিযোগ, চাচাতো ভাই গোলাম হোসেন আমার বাবাকে খুন করে পালিয়েছে। পালানোর সময় আমার মা তাকে দেখেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গোলাম হোসেন সব সময় তার পরিবারে অশান্তি করত, তার বউকে প্রচণ্ড মারধর করত। সেটা নিয়ে আমরা বাধা দিতাম। চাচা হিসেবে আমার বাবা প্রতিবাদ করতেন। সেই ক্ষোভেই আমার বাবাকে খুন করেছে গোলাম।
কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আজাদ মিয়া বলেন, গত পাঁচ মাস আগে পরিবার ও স্থানীয়রাসহ আমরা গোলামের বউকে নিরাপত্তার স্বার্থে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিই। বউকে অনেক মারধর করত গোলাম হোসেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসেছে, তারা তদন্ত করছে।
ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা বলেন, হত্যায় ব্যবহৃত হাঁসু/বেকিটি মরদেহের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বারান্দার একটি রুমের পাটাতনের নিচের অংশ খুলে রুমের ভেতরে ঢুকে গলা কেটে খুন করা হয় কৃষককে।
তিনি আরও জানান, এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না। পরিবারের অভিযোগ এবং পারিপার্শ্বিক আরও বেশ কিছু বিষয়সহ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনসহ জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।




