বুধবারের এইচএসএসি পরীক্ষা স্থগিত না হলে মন্ত্রণালয় অভিমুখে ‘লংমার্চের’ ঘোষণা

এইচএসসি ও সমমানের আজকের (বুধবার, ১৫ জুলাই) পরীক্ষা স্থগিত করা না হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে ‘লংমার্চ’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংক্ষিপ্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা।
তাৎক্ষণিক ব্রিফিংয়ে ঢাকা সিটি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মিরাজ জানান, বুধবারের পরীক্ষা মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই স্থগিত করতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। এই দাবি মানা না হলে বুধবারই ‘লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি পালন করা হবে।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, সরকার যদি বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত না করে, তবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হবে কি না সে বিষয়ে আন্দোলনকারীরা নিজেরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা যে পরীক্ষা দেবই, তা কিন্তু বলিনি। আমরা বলেছি যদি বাধ্য হয়ে পরীক্ষায় বসতেই হয়, তবে অখুশি মনে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করব। কারণ পরবর্তীতে সরকার বলতে পারে আমরা পরীক্ষা না দেওয়ার কারণে ফেল করেছি।
সংবাদ সম্মেলন শেষে রাতের মতো আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের সড়ক ত্যাগ করলে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালু রাখা এবং পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধন করার অভিযোগ এনে মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ অবরোধ করেন।
এর আগে একই দিন বিকেল পৌনে ৪টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে সেখান থেকে সংসদ ভবনের উদ্দেশে রওনা হন তারা। প্রথমে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন।
অবস্থান কর্মসূচিকালে শিক্ষার্থীদের ‘তুমি কে, আমি কে ফার্মের মুরগি, ফার্মের মুরগি’, ‘কে বলেছে, কে বলেছে শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী’, ‘দফা এক, দাবি এক শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’, ‘জ্বালো রে জ্বালো আগুন জ্বালো’ এবং ‘আপস না সংগ্রাম সংগ্রাম, সংগ্রাম’সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ সময় তাদের হাতে পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিসংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড শোভা পাচ্ছিল।
আন্দোলনকারীরা তাদের তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো:
১. দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে;
২. বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যাঁরা অংশ নিতে পারেননি, তাঁদের জন্য পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে; এবং
৩. আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে পদত্যাগ করতে হবে।





