জাবি দেশের প্রথম ‘ছাত্রলীগমুক্ত’ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস: উপাচার্য

এশিয়া পোস্ট নিউজ, জাবি
জাবি দেশের প্রথম ‘ছাত্রলীগমুক্ত’ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস: উপাচার্য
জুলাইয়ের ঘটনার স্মরণে নির্মিত স্মৃতিফলক উদ্বোধন করা হয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) দেশের প্রথম ‘ছাত্রলীগমুক্ত’ ক্যাম্পাস বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জাবিই সর্বপ্রথম সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের প্রভাবমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। আর সেই আন্দোলনের সুফল হিসেবেই বর্তমানে ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান, আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের বৈধ আসন নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত ৮টায় ২০২৪ সালের ১৪ জুলাইয়ের স্মৃতিময় ঘটনার স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে নির্মিত স্মৃতিফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, ১৪ জুলাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মধ্য দিয়েই ক্যাম্পাসে প্রতিরোধ আন্দোলনের মূল ভিত্তি রচিত হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলন এর আগেই শুরু হলেও ওই দিনের হামলা আন্দোলনকে অভূতপূর্ব গতি এনে দেয়। ইতিহাস প্রমাণ করেছে, ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হলে পাহাড়সম প্রতিপক্ষও পরাজিত হয়ে পালাতে বাধ্য হয়।

তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ই সর্বপ্রথম ছাত্রলীগমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পেরেছিল। পরবর্তী সময়ে এখান থেকেই মুক্তির আন্দোলন সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব পেয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে জাকসু নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, দীর্ঘ ৩৩ বছর পর শিক্ষার্থীরা আবারও সিনেটে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি পাঠাতে পেরেছে। এটি ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনের একটি বিরাট সাফল্য।

বর্তমান ক্যাম্পাস পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, গত প্রায় দুই বছরে ক্যাম্পাসে সক্রিয় সব ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সহাবস্থানে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। এই সময়ের মধ্যে তিনটি নতুন ব্যাচ ক্যাম্পাসে এসেছে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য বৈধ আবাসিক আসন নিশ্চিত করা হয়েছে। একসময় যেখানে গণরুমের সংস্কৃতি ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের কারণে শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়া দুঃসহ ছিল, সেখানে এখন শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও মুক্ত পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারছে।

তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অতীতের সব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

বক্তব্য শেষে উপাচার্য ২০২৪ সালের ১৪ জুলাইয়ের ঘটনার স্মরণে নির্মিত স্মৃতিফলকের আনুষ্ঠানিক উন্মোচন ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উদযাপন কমিটির সুপারিশক্রমে ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ, আন্দোলনের চেতনা লালন এবং ৫ আগস্ট উপলক্ষে এসব ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কর্মসূচির প্রথম অংশ হিসেবে ১৪ জুলাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে স্মৃতিফলক উন্মোচন করা হয়। এ ছাড়া ১৫ জুলাই ‘কালরাত্রি’ স্মরণে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিশেষ আলোচনা সভা, রাত ১১টায় প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, রাত ১২টায় এক মিনিটের নীরব ‘ব্ল্যাকআউট’, রাত ১২টা ১ মিনিটে মোমবাতি প্রজ্বালন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণে দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।