‘এত ভালোবাসা ও মর্যাদা কীভাবে রাখব সেটি আমাকে ব্যাকুল করে তুলেছে’

এশিয়া পোস্ট বিনোদন
‘এত ভালোবাসা ও মর্যাদা কীভাবে রাখব সেটি আমাকে ব্যাকুল করে তুলেছে’
নির্বাচিত হওয়ার পর সবাইকে নিয়ে শিল্পী সমিতিকে এগিয়ে নেওয়ার কথা বললেন শিবা সানু

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন অভিনেতা শিবা সানু। ২৪৩ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট।

নির্বাচিত হয়ে শিবা সানু, আমার গলায় এই ফুলের মালাটা আমাকে প্যানেল থেকে পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা আমার এখনও পরার সময় হয় নাই। এটা আমার পরার সময় তখনই হবে যখন আমি আমার শিল্পীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে পারব। তখন যদি কোনো শিল্পী আমাকে একটি ফুলও দেয় তাহলে সেটা আমার কাছে এই মালার চেয়ে অনেক বড় কিছু হবে। নির্বাচনে জয়লাভ করলেই তো আর সবকিছু শেষ হয়ে যায় না। যে কর্মকাণ্ডগুলো আমরা বাস্তবায়ন করার জন্য চিন্তাচেতনা নিয়ে একটি প্যানেল গঠন করেছিলাম সেটাতে যখন সফল হব তখনই আপনাদের সবার সামনে ফুলের মালা নেব।

জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অনেকেই হয়তো প্যানেল থেকে জয়লাভ করতে পারে নাই। যারা পেরেছে তাদেরকে অভিনন্দন। আর যারা করে নাই তাদেরকেও অভিনন্দন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য।

ভোটারদের সম্মান জানিয়ে শিবা সানু বলেন, যারা আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন। তাদের মনে এত বেশি বিশ্বাস ছিল আমার প্রতি, এত ভালোবাসা ছিল আমার প্রতি যে তাদের এই ভালোবাসা ও বিশ্বাসের পুরোপুরি মর্যাদা আমি কীভাবে রাখব এইটাই এখন আমাকে ব্যাকুল করে তুলেছে। নির্বাচনে যখনই জয়লাভ করা হয় তখন আনন্দিত হলেও এটা মাথার ওপরে এক ধরনের চাপও কিন্তু, যে আপনি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত করতে পারবেন কিনা। তবে শিল্পীর জন্য কাজ করতে হবে। আমাদের সিনিয়র একজন আর্টিস্ট ফাইট ডিরেক্টর আরমান সাহেব যিনি নির্বাচনে কখনও পরাজয় বরণ করেননি, ইতিহাসে তিনি কখনও হারেননি, তিনি আমার বিপক্ষে এই প্রথম হেরেছেন এইটা অনেক বেশি পাওয়া তারপরও বলব এইটা খুব বেশিও পাওয়ার না। জয়লাভের পরেও কিছু করতে পারাটা অনেক বড় ব্যাপার। আমি খুব গর্বিত যে আমি একটা একুশ জনের প্যানেল করেছিলাম। সবাই প্যানেলের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছে। এই জয়লাভে সবার অনেক অবদান ছিল।

সবাইকে নিয়েই কাজ করতে চাওয়ার কথা জানিয়েছেন খ্যাতিমান এই অভিনেতা। শিবা সানু বলেন, আমি ৬০০ জন সদস্য নিয়ে কাজ করতে চাই। আমাদের শিল্পী সমিতিতে এর আগে কোনো ব্যবস্থা ছিল না যে, একটা শিল্পী কোনো সমস্যায় পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারে। যেমন কারো জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী বা কেউ অসুস্থ এটা তাৎক্ষনিকভাবে জানার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এ বিষয়ে আমরা প্রথমেই পরিকল্পনা করেছি যে একটা ওয়েবসাইট খুলবো। ইউটিউব চ্যানেলও থাকবে। এবং ওইখানেই আমরা রেগুলার আপডেটগুলো দিতে থাকবো। যাতে করে কোনো শিল্পী কোনো নিউজ পাওয়া থেকে বঞ্চিত না থাকে। এবং তাদের কোনো সমস্যা থাকলে তা যেন এর মাধ্যমে জানাতে পারে। এতে করে অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসে খালি চা কফি খাওয়া আর ইন্টারভিউ দেয়াই একটা প্রেসিডেন্টের কাজ না। মাসে যেকোনো ছুটির দিনে একটা মিটিং করবো যেখানে সবাই উপস্থিত থাকবে এবং তাদের সমস্যার কথা বলবে। এর মাধ্যমেই আমরা নিজেদের গুছিয়ে চলাফেরা করতে পারবো।