Advertisement

মিনা পাল থেকে ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরী হয়ে ওঠার গল্প

এশিয়া পোস্ট বিনোদন
মিনা পাল থেকে ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরী হয়ে ওঠার গল্প
মিনা পাল থেকে ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরী হয়ে ওঠার গল্প

প্রকৃত নাম মিনা পাল। তবে দর্শকদের কাছে মিষ্টি মেয়ে হিসেবেই পরিচিত তিনি। ১৯৬৪ সালের ‘সুতরাং’ সিনেমায় জরিনা চরিত্রে অভিনয় করার পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। বলছি ষাট ও সত্তরের দশকের জনপ্রিয় নায়িকা সারাহ বেগম কবরীর কথা। কীভাবে মিনা পাল থেকে পর্দায় কবরী হয়ে উঠলেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী, তা নিয়েই এবারের আয়োজন।

১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন কবরী। মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে প্রথম মঞ্চে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। সে সময় অভিনেতা ও নির্মাতা সুভাষ দত্ত তার ‘সুতরাং’ চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় ‘জরিনা’ চরিত্রের জন্য নতুন এক মুখ খুঁজছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, নিজের বিপরীতেই সেই মেয়েটিকে নায়িকা হিসেবে পর্দায় হাজির করা।

তখন প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীত পরিচালক সত্য সাহা অভিনেত্রীর সন্ধান দেন সুভাষ দত্তকে। সিনেমার কাজের সুযোগ পেয়ে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় রওনা হন তারকা। কণ্ঠ ও সংলাপ পরীক্ষার পর ‘জরিনা’ চরিত্রের জন্য তাকে পছন্দ করা হলে, লেখক সৈয়দ শামসুল হক তার নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘কবরী’।

এরপর শুরু হয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে কবরীর যাত্রা। ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘সারেং বৌ’, ‘সুজন সখী’র মতো একের পর এক সিনেমায় অসাধারণ অভিনয় ও সাবলীল রূপে ধরা দিয়েই দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। এমনকি পর্দায় সারল্য, মায়াবী চেহারা এবং মোহময়ী হাসির জন্য ‘মিষ্টি মেয়ে’ উপাধিও পান কবরী।

এছাড়া ‘আবির্ভাব’ চলচ্চিত্রে নায়করাজ রাজ্জাকের সঙ্গে জুটি বেঁধেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসেন কবরী। এমনকি এর মাধ্যমেই ঢাকাই সিনেমার সোনালী যুগের অবিসংবাদিত ও সর্বকালের সেরা জুটির সূচনা হয়। ময়নামতি, নীল আকাশের নীচে, যে আগুনে পুড়ির মতো বেশ কিছু সিনেমায় রাজ্জাক-কবরীর রসায়নে মুগ্ধ হন দর্শক।

সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনয়, প্রযোজনা, পরিচালনার জন্য অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন কবরী। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ বেশ কিছু পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। বিনোদনের পাশাপাশি রাজনীতিতেও বেশ সরব ছিলেন এই কিংবদন্তি।

২০২১ সালে ১৭ এপ্রিল ৭০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কবরী। সশরীরে তিনি উপস্থিত না থাকলেও, নিজের কালজয়ী সৃষ্টির মাধ্যমে এদেশের মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন ঢাকাই সিনেমার এই মিষ্টি মেয়ে।