‘আমেরিকার মাটিতে ফ্রি প্যালেস্টাইন স্লোগানেই মিশরের সর্বনাশ’

আর্জেন্টিনার সঙ্গে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে মিশর। ম্যাচে বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে উত্তাল ফুটবল বিশ্ব। এরই মধ্যে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও তার অফিশিয়েটিং দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ফিফার কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছে।
শেষ ষোলোর ম্যাচে একসময় ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। কিন্তু শেষ ভাগে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের পর থেকেই কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল মিশর শিবির।
বিতর্কিত এই ম্যাচ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ। দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমি এতদিন ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলা নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করিনি। কোনো বিতর্কে যাইনি, কোনো পোস্টও করিনি। কিন্তু আজকে অনেকগুলো পোস্ট করতে বাধ্য হয়েছি, কথা বলতে বাধ্য হয়েছি। কারণ আজ আমার কাছে মনে হয়েছে, আর্জেন্টিনাকে জেতানোর জন্য, শুধুমাত্র ব্যবসার জন্য ফিফা যা খুশি তাই করছে। ফুটবলের নামে যা চলছে, সেটা আর স্বাভাবিক রেফারিং ভুল বলে মেনে নেওয়া যায় না। আজ মিশরের কাছ থেকে একদম প্রকাশ্যে, চোখের সামনে তাদের প্রাপ্য জয়টা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। একজন ফুটবল ফ্যান হিসেবে এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব না।
বান্নাহ আরও বলেন, আমি এতদিন চুপ ছিলাম। কিন্তু আজ আর চুপ থাকা যায় না। আমি একা বলছি না, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের অনেক বিবেকবান মানুষও কথা বলছে, যারা ফুটবল বোঝে, খেলার সৌন্দর্য বোঝে, ন্যায়-অন্যায় বোঝে। তাদের প্রায় সবাই কথা বলছে। মেসির প্রতিও সম্মান রেখেই বলছি, আজ সারা পৃথিবীর চোখের সামনে যা হয়েছে, সেটা ফুটবলের জন্য ভালো কিছু নয়।
তিনি বলেন, আমি জানি, এই বিষয় নিয়ে আমার পোস্ট দেখে অনেকেই রাগ করতে পারেন, মন খারাপ করতে পারেন। কিন্তু তাতে আমার কিছু যায় আসে না। কারণ আমি এতদিন কথা বলিনি, কিন্তু আজ আমার কাছে মনে হয়েছে, অন্যায়কে অন্যায় বলতেই হবে। আমার কাছে মনে হয়েছে, মিশরের সর্বনাশটা সেদিনই শুরু হয়েছিল, যেদিন মিশরের কোচ আমেরিকার মাটিতে প্যালেস্টাইনের পতাকা হাতে নিয়ে ফ্রি প্যালেস্টাইন বলে স্লোগান দিয়েছিলেন । এটা অবশ্যই ন্যায্যতা ও ফুটবলের সৌন্দর্যের ওপর আঘাত। সারা পৃথিবীর চোখের সামনে যা হয়েছে, সেটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। রেফারিং, ফাউল, ভিএআর সবকিছু যেন একদিকে ঝুঁকে ছিল।




