শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি বুঝবেন যে ৯ লক্ষণ দেখে

আমাদের শরীরের মেটাবলিজম, হরমোন নিয়ন্ত্রণ, পেশির শক্তি ধরে রাখা এবং ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে প্রোটিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, অনেকেই প্রতিদিনের খাবারে প্রয়োজনীয় পরিমাণ প্রোটিন গ্রহণ করেন না।
প্রোটিনের ঘাটতি হলে শরীর বাধ্য হয়ে নিজের সঞ্চিত পেশি ভেঙে অ্যামিনো অ্যাসিড সংগ্রহ করতে শুরু করে। তবে লক্ষণগুলো শুরুতে বেশ সূক্ষ্ম হলেও ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের বলা এমন ৯টি লক্ষণ যা দেখলে বুঝবেন আপনার শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি আছে।
১. সব সময় ক্লান্ত ও অবসন্ন অনুভব করা
পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও যদি সারাদিন ক্লান্তি ও শক্তির অভাব অনুভব হয়, তবে এটি প্রোটিনের ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। প্রোটিন রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে ব্লাড সুগার দ্রুত ওঠা-নামা করে, ফলে দুপুরের পর শরীর একদম নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
২. পেশির ক্ষয় বা পেশি গঠনে সমস্যা
পেশি টিস্যু সুস্থ রাখতে এবং গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। প্রোটিনের ঘাটতি হলে শরীর পেশি থেকে অ্যামিনো অ্যাসিড টেনে নেয়, যার ফলে পেশির গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে কষ্ট হওয়া, হাতের গ্রিপ বা শক্তি কমে যাওয়া বা সামান্য ব্যায়ামেই দীর্ঘক্ষণ পেশিতে ব্যথা থাকা এর লক্ষণ।
৩. ঘন ঘন ক্ষুধা লাগা
প্রোটিন পরিপাক হতে বেশি সময় নেয় এবং এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের হরমোনগুলোকে সক্রিয় রাখে। খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ কম থাকলে কার্বোহাইড্রেট দ্রুত হজম হয়ে যায়, ফলে খাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই আবার মিষ্টি বা শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা বা ক্ষুধা জাগে।
৪. চুল পড়া, ত্বক নির্জীব হওয়া এবং নখ ভেঙে যাওয়া
আমাদের চুল, ত্বক ও নখ মূলত কেরোটিন ও কোলাজেনের মতো প্রোটিন দিয়ে তৈরি। শরীরে প্রোটিনের অভাব দেখা দিলে শরীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বাঁচানোর মতো জরুরি কাজে প্রোটিন সরবরাহ করে এবং চুল বা নখের মতো বাহ্যিক অংশে পুষ্টি দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে চুল পাতলা হয়ে যায়, ত্বক আর্দ্রতা হারায় এবং নখ সহজে ভেঙে যায়।
৫. ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়া
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে অ্যান্টিবডি, যা মূলত প্রোটিন দিয়ে তৈরি। তাই খাবারে প্রোটিন কম থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে ঘন ঘন সর্দি-কাশি বা অন্যান্য সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং ক্ষত শুকাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় নেয়।
৬. মনোযোগে অভাব
মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা এবং মেজাজ ঠিক রাখার জন্য ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটার প্রয়োজন, যা তৈরি হয় প্রোটিন বা অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে। প্রোটিনের ঘাটতি হলে মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগ দিতে না পারা কিংবা চিন্তাভাবনা ধীরগতির মনে হতে পারে।
৭. শরীরচর্চার পর দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা
ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের পর পেশির যে ক্ষয় হয়, প্রোটিন তা মেরামত করে। পর্যাপ্ত প্রোটিন না পেলে শরীরচর্চার পর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি দিন পেশিতে ব্যথা বা ক্লান্তি স্থায়ী হয়।
৮. শরীর ফুলে যাওয়া বা ‘ইডিমা’
প্রোটিন রক্তনালীতে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে। রক্তে প্রোটিনের মাত্রা অনেক কমে গেলে তরল পদার্থ টিস্যুতে জমতে শুরু করে, যার ফলে হাত, পা, মুখ বা চোখের নিচে ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে।
৯. পেশি কমে ওজন হ্রাস পাওয়া
ওজন কমছে কিন্তু শরীর শিথিল বা দুর্বল লাগছে- এমনটা হলে বুঝতে হবে মেদ নয় বরং প্রোটিনের অভাবে শরীরের জরুরি ‘লিন মাস’ বা পেশি কমে যাচ্ছে। এতে মেটাবলিজম বা হজমপ্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়ে।
প্রতিদিন কতটুকু প্রোটিন প্রয়োজন?
সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন প্রতি কেজি শরীরের ওজনের বিপরীতে ০.৮ থেকে ১ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। তবে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাদের দিনে প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১.২ থেকে ২.০ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত।
দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ডিম, চর্বিহীন মাংস, মাছ, ডাল, বাদাম, সয়াবিন, পনির ও দুগ্ধজাত খাবার খেলে খুব সহজেই প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।
.png)





