ভূমিকম্প হলে যে দোয়া পড়বেন

ভূমিকম্প মহান আল্লাহর নিদর্শন। তা মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা। এর মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাদের স্মরণ করিয়ে দেন তার শক্তি ও ক্ষমতার কথা। স্মরণ করিয়ে দেন মানুষের দুর্বলতা ও মুখাপেক্ষিতার কথা। মুমিন-মুসলমানের উচিত, ভূমিকম্পের মতো যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপদের সময় আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করা। আল্লাহর কাছে নিজেদের সঁপে দেওয়া। বিনয়ী হওয়া। তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা।
ইসলামে ভূমিকম্প
কোরআনে সুরা জিলজাল নামে একটি সুরা আছে। এটি কোরআনের ৯৯ নম্বর সুরা। এ সুরায় কিয়ামতের ভয়াবহতা উল্লেখ করে মানুষকে সচেতন করা হয়েছে। এ সুরার প্রথম শব্দ জালজালাহু—অর্থ প্রচণ্ডভাবে ঝাড়া দেওয়া, ভূকম্পিত হওয়া।
মানুষের নানা অপকর্ম প্রাকৃতিক বিপর্যয় ডেকে আনে। দিন দিন মানুষের অপকর্ম বেড়েই চলছে। পাপের দিকে প্রতিযোগিতার মানসিকতা নিয়ে দৌড়াচ্ছে মানুষ। অনেকে বিপদ এলে সাময়িকভাবে হয়তো পাপ ছেড়ে দেয়, কিন্তু কিছুদিন পর আবার জড়িয়ে পড়ে পাপে। মানুষের পাপের পথ ধরেই আসে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহাবিপদ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জিত হবে। কাউকে বিশ্বাস করে সম্পদ গচ্ছিত রাখার পর আত্মাসাৎ করা হবে। জাকাতকে জরিমানা হিসেবে দেখা হবে। ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া জ্ঞান অর্জন করা হবে, স্বামী তার স্ত্রীর বাধ্যগত হয়ে মায়ের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করবে। বন্ধুকে কাছে টেনে নিয়ে পিতাকে দূরে সরিয়ে দেবে। মসজিদে উচ্চস্বরে শোরগোল হবে। যখন সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তিটি সমাজের শাসক হবে। তখন তোমরা অপেক্ষা করো রক্তিম বর্ণের ঝড়ের (অ্যাসিড বৃষ্টি), ভূকম্পনের, ভূমিধসের, রূপ বিকৃতির, পাথর বৃষ্টির এবং সুতো ছেঁড়া (তাসবিহ) দানার মতো একটির পর একটি নিদর্শনগুলোর জন্য।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৪৪৭)
ভূমিকম্প থেকে বাঁচার দোয়া
ভূমিকম্প থেকে বাঁচার সরাসরি কোনো দোয়া কোরআন-হাদিসে নেই। তবে কোরআন-হাদিস পাঠে জানা যায়, ভূমিকম্প হলে বেশি বেশি ইসতেগফার পড়া, দোয়া করা, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা ও সদকা করা উত্তম কাজ। আল্লাহর কাছে সিজদাও করা যেতে পারে। তবে কোরআন ও হাদিসে বিপদ থেকে মুক্তির জন্য যে দোয়াগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো পাঠ করা যেতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) তীব্র বাতাস ও ঝড়ের সময় পড়তেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা, ওয়া খাইরা মা ফিহা, ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি, ওয়া আউজুবিকা মিন শাররিহা, ওয়া শাররি মা ফিহা, ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এর কল্যাণ চাই। এর মধ্যে যে কল্যাণ আছে সেটা চাই এবং যে কল্যাণ দিয়ে এটাকে পাঠানো হয়েছে তা চাই। আমি আপনার কাছে এর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই, এর মধ্যে যে অনিষ্ট অন্তর্ভুক্ত আছে তা থেকে আশ্রয় চাই এবং যে অনিষ্টসহ এটাকে পাঠানো হয়েছে, তা থেকে আশ্রয় চাই। (সহিহ মুসলিম)
দোয়া ইউনুস পড়া
যে কোনো বিপদের সময় দোয়া ইউনুস পড়া সুন্নত। ইউনুস (আ.) বিপদে পড়ে এই দোয়া বারবার পড়েছিলেন। তখন আল্লাহ তার দোয়া কবুল করে তাকে মুক্তি দিয়েছেন। দোয়াটি হলো—
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতা মিনাজ জ-লিমিনি।
অর্থ: তুমি ছাড়া কোনো উপাসক নেই। তুমি পবিত্র সুমহান। আমি নিশ্চয়ই জালিমদের দলভুক্ত।
বিপদ থেকে সার্বক্ষণিক সুরক্ষার দোয়া
بِسْمِ اللهِ الَّذِيْ لاَ يَضُرُّ مَعَ إِسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি, ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম।
অর্থ : আল্লাহর নামে, যার নামের বরকতে আকাশ ও মাটির কোনো কিছুই অনিষ্ট করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রতিদিন ভোরে ও প্রতি সন্ধ্যায় এই দোয়াটি তিনবার পাঠ করলে কোনো কিছুই ব্যক্তির ক্ষতি কারতে পারবে না। (হাদিস)।
.png)





