সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে যে দোয়া পড়বেন

জীবন আমাদের কখনো কখনো নানাবিধ জটিলতার মধ্যে ফেলে দেয়। কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুখোমুখি করে। কিন্তু অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিতে আমরা হিমশিম খাই। যেমন—এই চাকরিটা নেব, নাকি আরও ভালো কিছুর অপেক্ষা করব। এই মানুষটিকে বিয়ে করব, নাকি না করে দেব। নতুন শহরে চলে যাব, নাকি যেখানে আছি সেখানেই থেকে যাব। এটা করব, নাকি ওটা করব ইত্যাদি।
সিদ্ধান্তহীনতা আমাদের ভোগায়। দুশ্চিন্তা আমাদের ওপর ভর করে। এ ক্ষেত্রে হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদের নামাজের আশ্রয় নিতে বলেছেন। পরামর্শ দিয়েছেন দোয়া পড়ার।
ধারণা করি, মহানবীর ছোট মেয়ে ফাতেমা (রা.)-এর জামাতা আলি (রা.) একবার তাঁর কাছে ‘সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারছেন না’ এমন বিষয় নিয়ে এসেছেন। তখন মহানবী তাকে একটি দোয়া শিখিয়েছেন। যে দোয়া পড়লে আল্লাহ মানুষকে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সাহায্য করেন। দূর করে দেন সকল বিভ্রান্তি। দোয়াটি হলো—
اللَّهُمَّ اهْدِنِي وَسَدِّدْنِي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইহদিনি ওয়া সাদ্দিদনি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাকে সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করুন এবং সরল পথে অবিচল রাখুন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭২৫)
এখানে মহানবী (সা.) আলিকে দীর্ঘ আমল বা বড় দোয়ার কথা বলেননি। শুধু দুই শব্দের একটি দোয়া শিখিয়েছেন। যে দোয়া পড়লে সিদ্ধান্তহীনতার ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। নেওয়া যাবে সঠিক সিদ্ধান্ত।
দোয়াটি কতবার পড়তে হবে—এ বিষয়ে হাদিসে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ছোট বা বড় যে কোনো সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হলেই দোয়াটি পড়া যেতে পারে। এ ছাড়া যে কোনো সময় দোয়াটি পড়া যায়। বিশেষ যে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুই রাকাত ইসতেখারার নামাজ পড়ে এ দোয়াটি বেশি বেশি পড়া যেতে পারে।
হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন কোনো কাজের উদ্যোগ নেবে, তখন সে যেন দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে এবং এরপর ইসতেখারার দোয়া পড়ে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৮৪১)







