চায়ে বিস্কুট ডুবিয়ে খেতে পছন্দ করেন, জেনে নিন কতটা নিরাপদ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
চায়ে বিস্কুট ডুবিয়ে খেতে পছন্দ করেন, জেনে নিন কতটা নিরাপদ
ছবি : সংগৃহীত

সকালবেলার ঘুম ভাঙুক কিংবা বিকেলের আড্ডা, এক কাপ গরম চায়ের সঙ্গে বিস্কুট যেন বহু মানুষের প্রিয় এক নিত্যসঙ্গী। অফিসের ডেস্কে কাজের ফাঁকে, অতিথি আপ্যায়নে কিংবা পরিবারের সঙ্গে গল্প করতে করতে চায়ে বিস্কুট ডুবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস আমাদের সংস্কৃতিরই একটি অংশ হয়ে উঠেছে।

Advertisement

অনেকেই মনে করেন, খালি পেটে চা খাওয়ার চেয়ে বিস্কুটের সঙ্গে চা খাওয়া ভালো। আবার কারও কাছে এটি ক্ষুধা মেটানোর সহজ উপায়। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন, মাঝে মাঝে এই অভ্যাস ক্ষতিকর না হলেও প্রতিদিন নিয়মিত এবং অতিরিক্ত পরিমাণে চা-বিস্কুট খাওয়া শরীরের ওপর কিছু নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কেন চা ও বিস্কুটের সংমিশ্রণ নিয়ে আলোচনা হয়?

সমস্যা মূলত চায়ে নয়, বরং অনেক বাণিজ্যিক বিস্কুটের উপাদানে। বাজারের বেশিরভাগ বিস্কুটে পরিশোধিত ময়দা, চিনি, পরিশোধিত তেল এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি থাকে। নিয়মিত এসব খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।

রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে

অনেক বিস্কুটে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও চিনি থাকে। এগুলো দ্রুত হজম হয়ে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস ওজন বৃদ্ধি, ইনসুলিন প্রতিরোধ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর জন্য শুধু চা-বিস্কুট নয়, পুরো খাদ্যাভ্যাসই দায়ী।

দ্রুত ক্ষুধা ফিরে আসতে পারে

বিস্কুট সাধারণত পেট ভরানোর মতো পর্যাপ্ত প্রোটিন বা ফাইবার সরবরাহ করে না। ফলে চায়ের সঙ্গে বিস্কুট খাওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য তৃপ্তি এলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা লাগতে পারে।

এর ফলে অনেকে দিনের বাকি সময়ে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করেন।

ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে

দিনে কয়েকবার চায়ের সঙ্গে বিস্কুট খাওয়ার অভ্যাস অজান্তেই অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের কারণ হতে পারে।

বিশেষ করে মাখন, ক্রিম বা চকলেটযুক্ত বিস্কুটে ক্যালোরি ও চিনি তুলনামূলক বেশি থাকে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ওজন বৃদ্ধি এবং পেটের চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

দাঁতের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে

বিস্কুটের চিনি ও স্টার্চ দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকতে পারে। নিয়মিত মুখ পরিষ্কার না করলে মুখের ব্যাকটেরিয়া এগুলো ভেঙে অ্যাসিড তৈরি করে, যা দাঁতের এনামেল ক্ষয় এবং ক্যাভিটির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কারও কারও ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়তে পারে

চায়ে থাকা ক্যাফেইন কিছু মানুষের পাকস্থলীতে অস্বস্তি বা অ্যাসিডিটির অনুভূতি বাড়াতে পারে। যদি এর সঙ্গে অতিরিক্ত মিষ্টি বা চর্বিযুক্ত বিস্কুট খাওয়া হয়, তাহলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বুকজ্বালা বা হজমের সমস্যা আরও বেশি অনুভূত হতে পারে।

তবে এটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে ঘটে না।

স্বাস্থ্যকর বিকল্প কী হতে পারে?

চায়ের সঙ্গে কিছু খেতে চাইলে তুলনামূলক পুষ্টিকর বিকল্প বেছে নেওয়া যেতে পারে।

  • ভাজা ছোলা
  • অল্প পরিমাণ বাদাম
  • মাখনা
  • ওটস বা সম্পূর্ণ শস্যের বিস্কুট
  • ফলের টুকরা
  • চিনি ছাড়া দই

এসব খাবারে সাধারণ বিস্কুটের তুলনায় বেশি ফাইবার, প্রোটিন বা উপকারী পুষ্টি উপাদান থাকে।

চায়ের সঙ্গে মাঝে মাঝে বিস্কুট খাওয়া সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে প্রতিদিন একাধিকবার চিনি ও ময়দাসমৃদ্ধ বিস্কুট খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় না।

তাই চা উপভোগ করুন, তবে বিস্কুটের পরিমাণ ও ধরন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন থাকুন। ছোট ছোট খাদ্যাভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনযাপনে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস