Advertisement

পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ পাওয়া সেই ১৪৩ কর্মীর বিষয়ে তদন্ত কমিটির শুনানি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রাজশাহী
পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ পাওয়া সেই ১৪৩ কর্মীর বিষয়ে তদন্ত কমিটির শুনানি
রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস। ছবি : এশিয়া পোস্ট

রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির উপস্থিতিতে এ শুনানি শুরু হয়।

তদন্ত কমিটিতে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসন ও অর্থ অনুবিভাগের যুগ্মসচিব ডি এম আতিকুর রহমান, নির্বাচনি সহায়তা ও সরবরাহ শাখার উপসচিব মো. হুমায়ুন কবির এবং জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের তথ্য যাচাই সেবার উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ আল-মামুন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া ১৪৩ জন আউটসোর্সিং কর্মীকে শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চাকরি না পাওয়া প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন অভিযোগকারীকে শুরুতে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও কিছু কর্মচারী তাদের গেটে আটকে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তাদের শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

শুনানিতে অংশ নিয়ে ভুক্তভোগীরা তদন্ত কমিটির কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন যে, আউটসোর্সিং চাকরি দেওয়ার নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি ও আদায় করা হয়েছে।

চাকরি না পাওয়া প্রার্থী মুক্তার হোসেন বলেন, সকাল থেকে গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম, আমাদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে সাংবাদিকরা বিষয়টি তুলে ধরলে আমরা প্রবেশের সুযোগ পাই।

আরেক ভুক্তভোগী হামিদুর রহমান বলেন, আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে চাকরি নেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। টাকা দিতে না পারায় চাকরিও পাইনি। আজ তদন্ত কমিটির কাছে সেই অভিযোগ লিখিতভাবে জানিয়েছি।

পাবনা থেকে আসা শাহ আলম অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেএসএফ ট্রেড লিমিটেড ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে নিয়ে ১৪৩ জনকে চাকরি দিয়েছে। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটাই অবৈধ।

এদিকে ঘুষ দিতে না পেরে নিয়োগবঞ্চিতদের একাংশ দুপুর ২টার দিকে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা বর্তমান নিয়োগ বাতিল, যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি প্রদান এবং সংগৃহীত অর্থ ফেরতের দাবি জানান।

তদন্ত কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ বক্তব্য না দিলেও রাজশাহীর আঞ্চলিক অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, তদন্ত কমিটি পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে এবং সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকেই লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।

রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের মাধ্যমে ১৪৩ জন কর্মী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসন ও অর্থ শাখা থেকে গত ২৭ জুলাই জারি করা এক নোটিশে সংশ্লিষ্টদের ৩০ জুলাই সশরীরে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এর আগে, কোনো ধরনের উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই লোক নিয়োগ দেওয়া এবং প্রতিটি পদের বিপরীতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গত ১৮ জুলাই এশিয়া পোস্টে ‘পরীক্ষা ছাড়াই রাজশাহীর নির্বাচন অফিসে নিয়োগ পেলেন ১৪৩ জন’ শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আসে এবং তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

বিষয় :রাজশাহী