Advertisement

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

এশিয়া পোস্ট নিউজ
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনায় তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে সোমবার (২৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন এ বিষয়ে একটি রিট আবেদন করেন।

রিটকারী আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হবে।

সম্প্রতি পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) এক বছরের গবেষণা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এসডোর গবেষণায় সারা দেশের ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপের পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরি’তে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষায় স্টেরিওমাইক্রোস্কোপি ও ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (এফটিআইআর) স্পেকট্রোস্কোপি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি টুথপেস্টের মধ্যে ২২টিতে, ভারতে উৎপাদিত ৫টির মধ্যে ১টিতে, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে ১টিতে এবং ভিয়েতনামে উৎপাদিত ২টির দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া শিশুদের জন্য তৈরি ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেও এ ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেলে। এছাড়া ক্লোজ আপ রেড হট ও ক্লোজ আপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি করে, কডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা স্ট্রবেরিতে ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি এবং আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডে বিভিন্ন মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

তবে গবেষণায় কিছু ইতিবাচক তথ্যও উঠে এসেছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত জেনফ্রেশ, প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো) ও ক্লোজ আপ রেড হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি এবং আমদানিকৃত কডোমো অরেঞ্জ টুথপেস্টে শনাক্তযোগ্য কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এসডো।