বেলিংহামের জোড়া গোলে নরওয়েকে হারিয়ে সেমিতে ইংল্যান্ড

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
বেলিংহামের জোড়া গোলে নরওয়েকে হারিয়ে সেমিতে ইংল্যান্ড
জুড বেলিংহাম। ছবি: সংগৃহীত

শেষ পর্যন্ত আর্লিং হালান্ড নন, মায়ামির রাতটা নিজের করে নিলেন জুড বেলিংহাম। পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে প্রথমে সমতায় ফিরিয়েছেন, এরপর অতিরিক্ত সময়ে আরেক গোল করে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। রোমাঞ্চ, বিতর্ক আর ভিডিও সহকারী রেফারির একাধিক সিদ্ধান্তে ভরা কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়েছে টমাস টুখেলের দল।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন বেলিংহাম। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার ষষ্ঠ গোল। ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দল।

মায়ামির প্রচণ্ড গরমে ম্যাচের শুরুটা ছিল ধীরগতির। তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও আর্দ্রতার কারণে অনুভূত হচ্ছিল ৪২ ডিগ্রির মতো। সেই পরিস্থিতিতে শুরুতে শক্তি বাঁচিয়ে খেলার চেষ্টা করে দুই দল।

বল বেশি ছিল ইংল্যান্ডের পায়ে। অ্যান্থনি গর্ডন ও ননি মাদুয়েকেকে দুই প্রান্তে ব্যবহার করে নরওয়ের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করে তারা। গর্ডনের ক্রসে বেলিংহামের একটি হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বিপজ্জনক জায়গা থেকে পাওয়া ফ্রি-কিক উড়িয়ে মারেন হ্যারি কেইন।

ধীরে ধীরে ইংল্যান্ডের রক্ষণে চাপ বাড়ায় নরওয়ে। জন স্টোনসের ভুলে বল পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি হালান্ড। ৩৫ মিনিটে তার হেড সরাসরি যায় জর্ডান পিকফোর্ডের হাতে। তবে পরের মিনিটেই ইংলিশ গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন আন্দ্রেয়াস শেলডেরুপ।

মাঝমাঠের কাছে কেইনের পা থেকে বল কেড়ে নেন প্যাট্রিক বার্গ। ফাউলের দাবিতে ইংল্যান্ডের কয়েকজন খেলোয়াড় থেমে গেলেও খেলা চালিয়ে যান রেফারি। বাঁ দিক দিয়ে এগিয়ে ভেতরের দিকে ঢুকে ক্রসের মতো করে বল পাঠান শেলডেরুপ। বাঁক নেওয়া বল পিকফোর্ডকে ফাঁকি দিয়ে দূরের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।

এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগও পেয়েছিল নরওয়ে। আলেকজান্ডার সোরলথ ও হালান্ড দুইজন মিলে প্রায় একা পেয়ে গিয়েছিলেন স্টোনসকে। তবে সোরলথের ভুল সিদ্ধান্ত এবং স্টোনসের দারুণ রক্ষণে বেঁচে যায় ইংল্যান্ড।

সেই সুযোগ নষ্ট করার মূল্য নরওয়েকে দিতে হয় প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে। গর্ডনের নিচু ক্রস বক্সের প্রান্তে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কয়েকটি স্পর্শে জায়গা তৈরি করেন বেলিংহাম। এরপর ঘুরে দাঁড়িয়ে দূরের কোণে নিখুঁত শটে সমতা ফেরান তিনি।

গোলটির আগে নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিল্যান্ডের গোলকিক মাঠের ওপর ঝুলন্ত ক্যামেরার তারে লেগেছিল বলে অভিযোগ তোলে নরওয়ে। রিপ্লেতে বলের গতিপথে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলেও খেলা থামানো হয়নি। পরে ফিফা জানায়, বলের ভেতরের সেন্সরে বাইরের কোনো বস্তুর সঙ্গে সংঘর্ষের সংকেত পাওয়া যায়নি। ফলে বেলিংহামের গোলটি বহাল থাকে।

বিরতির পর বুকায়ো সাকা ও এবেরেচি এজেকে নামিয়ে আক্রমণের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন টুখেল। কিন্তু শুরুতেই আবার গোল করে নরওয়ে। ৫৫ মিনিটে সোরলথের শট পিকফোর্ড ঠেকিয়ে দিলে ফিরতি বল জালে পাঠান তোরবিয়র্ন হেগেম। উদ্‌যাপনও শুরু করেছিল নরওয়ে।

তবে ভিডিও সহকারী রেফারির পরামর্শে মাঠের পাশের পর্দায় ঘটনাটি দেখেন রেফারি। কর্নার নেওয়ার আগে এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে হালান্ড ধাক্কা দেওয়ায় গোলটি বাতিল করা হয়। নরওয়ের আবার এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র কয়েক মিনিট।

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নেয় নরওয়ে। একটি হেড ক্রসবারে লাগলে আবারও বেঁচে যায় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে শেষ দিকে সাকার নিচু ক্রস থেকে ইংল্যান্ডের নিশ্চিত গোল ঠেকান ফ্রেডরিক আউরসনেস। নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

সেখানেও পার্থক্য গড়ে দেন বেলিংহাম। ৯৩ মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে মর্গান রজার্সের জোরালো শট ঠিকমতো ধরতে পারেননি নিল্যান্ড। তার হাত থেকে ছুটে যাওয়া বল ছয় গজের মধ্যে পেয়ে দ্রুত জালে পাঠান বেলিংহাম। ওস্তিগার্ডের আগে বলের কাছে পৌঁছে একজন সুযোগসন্ধানী গোলদাতার মতোই কাজটি করেন তিনি।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড একটি পেনাল্টিও পেয়েছিল। ডিয়েড স্পেন্সের সঙ্গে অস্কার ববের সংঘর্ষে প্রথমে স্পটকিক দেন রেফারি। তবে ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত বদলান তিনি। রিপ্লেতে দেখা যায়, স্পেন্স নিজেই পা বাড়িয়ে সংঘর্ষ তৈরি করেছিলেন।

শেষ ১৫ মিনিটে সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও ক্লান্ত নরওয়ে আর প্রয়োজনীয় গোলটি পায়নি। হালান্ডকেও তুলে নেন স্তালে সোলবাকেন। বাকি সময় রক্ষণ সামলে জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।

ব্রাজিলকে বিদায় করে ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নরওয়ের স্বপ্নযাত্রা থামল মায়ামিতে। আর ২০১৮ সালের পর আবার বিশ্বকাপের শেষ চারে উঠল ইংল্যান্ড। তাদের এই যাত্রার কেন্দ্রে এখন একজনই, জুড বেলিংহাম।