যে একাদশ নিয়ে জাপানের বিপক্ষে নামতে পারে ব্রাজিল

জাপানের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর নকআউট ম্যাচের আগে শেষ অনুশীলন সেরে ফেলেছে ব্রাজিল। হিউস্টনের শেল এনার্জি স্টেডিয়ামে রোববার অনুশীলন করে কার্লো আনচেলত্তির দল। সেই অনুশীলন থেকে সোমবারের ম্যাচের একাদশের ধারণা পাওয়া গেছে এবং স্কটল্যান্ডকে হারানো একাদশই ধরে রাখতে পারেন ব্রাজিল কোচ।
রাফিনিয়া এখনও ডান উরুর পেশির চোট কাটিয়ে উঠছেন। তাই জাপানের বিপক্ষে তার না খেলার সম্ভাবনাই বেশি। রাফিনিয়ার অনুপস্থিতিতে স্কটল্যান্ড ম্যাচে সুযোগ পাওয়া রায়ান আবারও একাদশে থাকতে পারেন।
ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ: আলিসন; দানিলো, মারকিনিয়োস, গাব্রিয়েল মাগালিয়াইস, ডগলাস সান্তোস; কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস, লুকাস পাকেতা; রায়ান, মাথেউস কুনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
এই একাদশ নামলে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার একই একাদশ পরপর দুই ম্যাচে ব্যবহার করবেন আনচেলত্তি। গ্রুপ পর্বে তিনি বিভিন্ন সমন্বয় পরীক্ষা করেছেন। তবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ জয়ের পর সেই একাদশেই আস্থা রাখার ইঙ্গিত মিলেছে শেষ অনুশীলনে।
অনুশীলনের প্রথম ১৫ মিনিট ছিল সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে, প্রায় ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়, আনচেলত্তি সেট পিস নিয়ে কাজ শুরু করেন। এবারের বিশ্বকাপে ম্যাচের আগের দিন ব্রাজিলের অনুশীলনে স্থির বল নিয়ে আলাদা কাজ করা নিয়মিত দৃশ্য হয়ে উঠেছে।
রাফিনিয়ার চোটের পর স্কটল্যান্ড ম্যাচে রায়ান সুযোগ পেয়েছিলেন। শুধু আক্রমণ নয়, রক্ষণেও তাঁর কাজ নজর কাড়ে। ডান দিক দিয়ে আক্রমণ তৈরির পাশাপাশি প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামাতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। সেই পারফরম্যান্সই তাকে জাপানের বিপক্ষে আবারও একাদশে রাখার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।
ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ভরসা অবশ্য ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। গ্রুপ পর্বে চার গোল করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। ব্রাজিলের আক্রমণে তিনি এখন সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র। গতি, ড্রিবলিং ও ফিনিশিং মিলিয়ে নকআউট পর্বে ব্রাজিলের স্বপ্ন অনেকটাই তাঁর ছন্দের ওপর নির্ভর করবে।
নেইমারও দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে কিছু সময় মাঠে ছিলেন তিনি। জাপানের বিপক্ষে তাকে আরও বেশি সময় ব্যবহার করা হতে পারে। তবে শুরু থেকে খেলার সম্ভাবনা আপাতত কম। নকআউট পর্বে ঝুঁকি না নিয়ে ধীরে ধীরে তাঁকে ম্যাচ ফিটনেসে ফেরানোই ব্রাজিলের পরিকল্পনা।
গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের শুরুটা হয়েছিল মরক্কোর সঙ্গে ১-১ ড্র দিয়ে। এরপর হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট, ৭ গোল, গোল হজম মাত্র ১টি, পরিসংখ্যানের দিক থেকেও ব্রাজিলের গ্রুপ পর্ব ছিল শক্তিশালী।
তবে নকআউটে প্রতিপক্ষ জাপানকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় দলগুলোর বিপক্ষে সংগঠিত ফুটবল, দ্রুত ট্রানজিশন এবং শৃঙ্খল রক্ষণ দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে জাপান। আনচেলত্তিও ম্যাচটিকে শুধু আরেকটি খেলা হিসেবে দেখছেন না। নকআউটের বাস্তবতা মাথায় রেখে বাড়তি সতর্কতার কথাই বলেছেন ব্রাজিল কোচ।
বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১১টায় ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ শুরু হবে। জয়ী দল শেষ ষোলোয় মুখোমুখি হবে নরওয়ে ও আইভরি কোস্ট ম্যাচের জয়ীর সঙ্গে।





