না ফেরার দেশে দুইবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ইংলিশ কিংবদন্তি

ইংল্যান্ড ও লিভারপুলের কিংবদন্তি ফুটবলার কেভিন কিগান মারা গেছেন। দুইবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী সাবেক এই খেলোয়াড় ও কোচের বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
সোমবার কিগানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তার সাবেক ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছিলেন তিনি। শেষ সময়ে তার পাশে ছিলেন স্ত্রী ও মেয়েরা।
চলতি বছরের শুরুতে কিগানের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানিয়েছিল পরিবার। পরবর্তী সময়ে তিনি জানান, তার শরীরে চতুর্থ ধাপের ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে এবং চিকিৎসা চলছিল।
১৯৫১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের ডনকাস্টারে জন্ম কিগানের। স্কানথর্প ইউনাইটেডের হয়ে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করার পর ১৯৭১ সালে যোগ দেন লিভারপুলে। অ্যানফিল্ডে ছয় বছরের স্মরণীয় অধ্যায়ে ৩২৩ ম্যাচে করেন ঠিক ১০০ গোল।
লিভারপুলের হয়ে তিনটি ইংলিশ লিগ, একটি এফএ কাপ, দুটি উয়েফা কাপ এবং ১৯৭৭ সালের ইউরোপিয়ান কাপ জেতেন কিগান। বর্তমানে চ্যাম্পিয়নস লিগ নামে পরিচিত প্রতিযোগিতায় সেটিই ছিল লিভারপুলের প্রথম শিরোপা।
১৯৭৭ সালে লিভারপুল ছেড়ে জার্মানির হামবুর্গে যোগ দেন এই ফরোয়ার্ড। সেখানে ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে টানা দুবার ব্যালন ডি’অর জেতেন তিনি। ১৯৭৯ সালে হামবুর্গকে জেতান বুন্দেসলিগা। পরের বছর দলটিকে নিয়ে ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালেও খেলেছিলেন।
ইংল্যান্ডের জার্সিতে ৬৩ ম্যাচে ২১ গোল করেন কিগান। জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ১৯৮২ বিশ্বকাপেও খেলেছিলেন তিনি। খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ দিকে সাউদাম্পটন ও নিউক্যাসলের প্রতিনিধিত্ব করে ১৯৮৪ সালে অবসর নেন।
পরে কোচ হিসেবেও ইংলিশ ফুটবলে নিজের ছাপ রাখেন কিগান। তার অধীনেই নিউক্যাসল ১৯৯৫–৯৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার খুব কাছে পৌঁছেছিল। একপর্যায়ে ১২ পয়েন্টে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পেছনে থেকে রানার্সআপ হয় দলটি।
দুই মেয়াদে নিউক্যাসলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ফুলহাম, ম্যানচেস্টার সিটি ও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের কোচ ছিলেন কিগান। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে লিভারপুল, নিউক্যাসল, হামবুর্গ, উয়েফাসহ ফুটবল বিশ্বের অনেক ক্লাব ও সংস্থা।
.png)






