প্রযুক্তি জগতের শীর্ষ নির্বাহীদের বিশাল বহর নিয়ে চীন সফরে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন। এই সফরে ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি প্রতিনিধি একটি বড় দল নিয়ে। প্রায় এক দশক পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বেইজিং সফরকে ওয়াশিংটন–বেইজিং সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা— টিম কুক, ইলন মাস্ক, লারি ফিঙ্কসহ আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতা।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৭ জন শীর্ষ নির্বাহী এই প্রতিনিধিদলে যুক্ত হয়েছেন। তালিকায় আরও রয়েছেন স্টিফেন শোয়ার্জম্যান, জেন ফ্রেজার, ডেভিড সলোমন, মাইকেল মিয়েবাখ, কেলি অর্টবার্গ, রায়ান ম্যাকইনার্নি এবং কারগিল ও জেপি মরগানের মতো প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এছাড়া জেনা পাওয়েল ম্যাককরমিক ও ব্রায়ান সাইকসও এই সফরে আছেন। তবে শুরুতে তালিকায় না থাকলেও সফরের পথে আলাস্কায় যাত্রাবিরতির সময় এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াংকে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা যায়। পরে জানা যায়, শেষ মুহূর্তে তিনি আমন্ত্রণ পেয়ে প্রতিনিধিদলে যুক্ত হন।
চিপ নির্মাতা মাইক্রন টেকনোলজির প্রধান সঞ্জয় মেহরোত্রাও সফরে আছেন। তবে সিসকোর প্রধান চাক রবিন্স ব্যস্ততার কারণে অংশ নিতে পারেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিনিধিদল মূলত সেই সব কোম্পানির নেতৃত্বে গঠিত, যাদের চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক নিষেধাজ্ঞা, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও প্রযুক্তি প্রবেশাধিকারের সমস্যা রয়েছে—বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও এআই খাতে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষিপণ্য, বিমান ও জ্বালানি খাতে বড় চুক্তি করা এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা।
তিনি ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, এনভিডিয়ার মতো কোম্পানিগুলোর জন্য তিনি চীনের বাজার খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানাবেন। এটিই হবে তার প্রথম অগ্রাধিকার।
চীন সফরকালে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরে নৈশভোজ ও ঐতিহ্যবাহী টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শনও রয়েছে।
বাণিজ্যের পাশাপাশি আলোচনায় থাকবে একাধিক জটিল ভূরাজনৈতিক ইস্যু। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সংঘাত, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তাইওয়ানকে ঘিরে অস্ত্র বিক্রির বিষয়।
ওয়াশিংটন চায়, চীন ইরানকে আলোচনায় এনে সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রাখুক। তবে ট্রাম্প আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে চীনের সহায়তা তিনি অপরিহার্য মনে করেন না।
চীনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া হলো— চিপ তৈরির প্রযুক্তি ও উন্নত সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করা। বিশেষ নজরে রয়েছে এনভিডিয়ার এইচ২০০ এআই চিপের বাজার প্রবেশাধিকার।
গত বছরের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালেও পরে দুই দেশ একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। বর্তমানে উভয় পক্ষই সেই স্থিতাবস্থা ধরে রাখতে চাইছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে আছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের বড় সাফল্য হবে নতুন উত্তেজনা এড়িয়ে বর্তমান বাণিজ্য কাঠামো বজায় রাখা এবং সীমিত কিছু অর্থনৈতিক চুক্তি অর্জন




