পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ১০৯

টানা মৌসুমি বৃষ্টি ও আাকস্মিক বন্যায় পাকিস্তানে প্রাণহানি বেড়ে ১০৯ জনে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়া ও পাঞ্জাব প্রদেশ। এর মধ্যেই দেশজুড়ে আবারও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। ফলে নতুন করে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, গত ২৬ জুন থেকে শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাকিস্তানে অন্তত ১০৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতের একটি বড় অংশ ভারী বর্ষণে বাড়িঘরের ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়ে মারা গেছেন। প্রাণহানির প্রায় অর্ধেক ঘটনাই ঘটেছে আফগান সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিম খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে।
ভারী বর্ষণে আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক রাজধানী লাহোরে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতে শহরের অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাহোরের জলাবদ্ধতার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে জলজট নিরসনে সরকারের চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন দেশটির সাধারণ বাসিন্দারা।
এদিকে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে দেশজুড়ে আবারও নতুন করে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এনডিএমএ সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে নতুন করে প্রাণঘাতী পাহাড়ি ঢল ও বন্যার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে চরম আবহাওয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ২০২২ সালে দেশটিতে ঘটে যাওয়া স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড পানির নিচে তলিয়ে যায়। সেসময় ১ হাজার ৭৩৭ জন মানুষ মারা যান। বাস্তুচ্যুত হন লাখ লাখ মানুষ।
.png)






