‘বিজয় সফরের’ পরেই হিজবুল্লার হাতে নিহত ৫ ইসরায়েলি সেনা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
‘বিজয় সফরের’ পরেই হিজবুল্লার হাতে নিহত ৫ ইসরায়েলি সেনা
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে হিজবুল্লাহর একটি ভূগর্ভস্থ ড্রোন কারখানা ও সামরিক স্থাপনা পরিদর্শনে সাংবাদিকদের নিয়ে যায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তবে সেই ‘বিজয় সফর’ শেষে ইসরায়েলে ফেরার মাত্র এক ঘণ্টা পরই দক্ষিণ লেবাননের আলি আল-তাহের এলাকায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর আসে। পরদিন সেখানে আরও এক সেনা নিহত হন।

Advertisement

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইডিএফের আমন্ত্রণে ইসরায়েলি ও বিদেশি সাংবাদিকদের দুটি দল দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জুন গ্রামে প্রবেশ করে। সেখানে সাংবাদিকদের দেখানো হয় একটি ভূগর্ভস্থ ড্রোন কারখানা, যা ২৯ মিটার গভীরে অবস্থিত। আইডিএফের দাবি, এটি হিজবুল্লাহর একটি ‘কৌশলগত সম্পদ’।

কারখানাটির প্রধান সুড়ঙ্গ ২০০ থেকে ৩০০ মিটার দীর্ঘ। সেখানে ড্রোন উৎপাদন লাইন, বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক এবং ড্রোন উৎক্ষেপণের ব্যবস্থা রয়েছে। আইডিএফের আরবি ভাষার মুখপাত্র এলা ওয়াওয়েয়া সেখানে সাংবাদিকদের উদ্দেশে কারখানার বিভিন্ন অংশ তুলে ধরেন।

তবে প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, আইডিএফ যেটিকে কৌশলগত সম্পদ বলছে, সেটি যদি এত গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে সামরিক অভিযানের শুরুতেই কেন সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। আইডিএফের দাবি, ২০২৪ সালে বিমান হামলার পর হিজবুল্লাহ স্থানটি ত্যাগ করেছিল।

সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে থাকা এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও আইডিএফ লেবাননের গভীরে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে গুলি ও বিমান হামলায় কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চ থেকে লেবানন ও সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন হামলায় ১৪ সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ফলে উত্তরাঞ্চলে দায়িত্বরত ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে ড্রোন আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সাংবাদিকদের নিরাপদে ইসরায়েলে ফিরিয়ে আনার কিছুক্ষণ পরই আলি আল-তাহের এলাকায় প্রাণহানির খবর আসে। আইডিএফ জানায়, ওই অভিযানের লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর বদর বাহিনীর একটি ভূগর্ভস্থ আঞ্চলিক কমান্ড পোস্ট দখল করা।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ২০০০ সালে প্রত্যাহারের আগে দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে ১৫ বছরে ৪০০ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছিলেন। আর বর্তমান নিরাপত্তা অঞ্চলে মাত্র তিন মাসে নিহত হয়েছেন ৩৩ ইসরায়েলি সেনা। এর মধ্যে দুই মাস আগে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর নিহত হয়েছেন ২২ ইসরায়েলি সেনা। শুধু চলতি সপ্তাহেই দক্ষিণ লেবাননে ছয় সেনা নিহত হয়েছেন।

হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রোন কারখানা জব্দ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলেও এত ইসরায়েলি সেনা নিহতের বিপরীতে সেই সাফল্যও অনেকটা ফিকে হয়ে গেছে।